পশ্চিমারা আফগানিস্তানে জঙ্গি দমন করতে পারবে কি

সম্প্রতি কাবুলে জঙ্গি হামলার পর মৃতের কফিন নিয়ে যাচ্ছেন স্বজনেরা
এএফপির ফাইল ছবি

আফগানিস্তান থেকে পশ্চিমা সেনা প্রত্যাহারের পর দেশটিতে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রদেশ বা আইএসকের কর্মকাণ্ড বন্ধ করা তালেবানের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হতে পারে। পশ্চিমা বিশ্বের জন্যও হুমকি হয়ে উঠতে পারে আইএস। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব বলেছেন, যুক্তরাজ্য তার সর্বশক্তি দিয়ে আইএসের বিরুদ্ধে লড়বে।’ অনেকের মনেই প্রশ্ন, ব্রিটিশ মন্ত্রীর এই কথা কিসের ইঙ্গিত দিচ্ছে? এই সমস্যা সমাধানে গর্ব করার মতো কিই-বা আছে যুক্তরাজ্যের?

তালেবান বাহিনী ক্ষমতায় আসার পর আফগানিস্তানে পশ্চিমা দেশগুলো সেখানে তাদের বিশ্বস্ত সহযোগী হারিয়েছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ, যুক্তরাজ্যের এমআইসিক্সসহ অন্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জন্য নিজেদের তথ্য দেওয়ার মতো লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হয়ে যাবে। প্রায় ২০ বছর ধরে ন্যাটো ও অন্যান্য বহুজাতিক বাহিনী আফগানিস্তানে থাকাকালে আল-কায়েদা, আইএস–কে (আফগানিস্তানকেন্দ্রিক আইএসের ইউনিট), অন্যান্য জঙ্গিগোষ্ঠীর বিষয়ে পশ্চিমা বাহিনীকে বিভিন্ন তথ্য সরবরাহ করত আফগান গোয়েন্দা বাহিনী।

বিশ্লেষকেরা মনে করেন, সেসব তথ্য ব্যবহার করে ব্রিটিশ, আমেরিকান, আফগান ও সেখানকার বিশেষ বাহিনী মাঝেমধ্যেই গভীর রাতে সন্দেহজনক আইএস ঘাঁটিতে অভিযান পরিচালনা করত। এর মাধ্যমে স্থানীয় কিংবা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় ধরনের জঙ্গি হামলার সম্ভাব্য ঝুঁকি বন্ধ করা সম্ভব হয়েছিল।

তালেবানের ক্ষমতা দখলের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের আফগান ঘাঁটি ও তথ্য সরবরাহকারীদের নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে গেছে। এই দুই মাধ্যমের ওপরেই যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য প্রাথমিকভাবে নির্ভর করত। কিন্তু এখন স্থানীয় তথ্যদাতাদের পরিবর্তে সাইবার পরিসর ও ড্রোনের ওপর নির্ভর করতে হবে তাদের। তবে আফগানিস্তান ছাড়ার শেষ মুহূর্তে গত বৃহস্পতিবার নানগারহারে সন্দেহজনক আইএসকে স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এটা প্রমাণ করে যে সেখানে এখনো তাদের কিছু সোর্স আছে। তার মানে দেশটির প্রত্যন্ত অঞ্চলের কোথায় কী ঘটছে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি অন্ধকারে আছে, সেটা বলা যাবে না।

অপরদিকে কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের ঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে যেকোনো অভিযান পরিচালনা করতে পারবে। এর মাধ্যমে ওই এলাকার যেকোনো লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নির্দিষ্ট স্থাপনায় চোখ ফাঁকি দিয়ে মিসাইল হামলা চালানোরও সক্ষমতা রয়েছে।