পোকার কামড় ও এক মেধাবী তরুণীর পরিণতি

বিজ্ঞাপন
default-image

সান্দ্রা আন জাইসন (১৮)। ভারতের কেরালার তরুণী পরিবারের সঙ্গে বাস করতেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাতে। পোকার কামড়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। তবে শারীরিক অসুস্থতা তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি।
খালিজ টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসেই সান্দ্রা মালায়লাম ভাষার দৈনিকগুলোর শীর্ষ খবরে জায়গা করে নেন তাঁর পরীক্ষার ফলাফলের কারণে। শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়া সান্দ্রা শারজায় কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা (সিবিএসই) পরীক্ষায় (দ্বাদশ শ্রেণি) সর্বোচ্চ গ্রেড পান।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, ২০১৪ সালে একটি পোকা সান্দ্রাকে কামড় দেয়। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে জানা যায় তিনি বিরল রোগ হেনোচ-শোনলিন পুরপুরায় (এইচএসপি) আক্রান্ত হয়েছেন। তবে কোন পোকা কামড় দিয়েছিল, তা জানা যায়নি। রক্তের ক্ষুদ্র কণিকার প্রদাহের এই রোগ ধীরে ধীরে সান্দ্রার কিডনি দুটো অকেজো করে দেয়। ২০১৮ সালে এসে তাঁর কিডনির কার্যক্ষমতার ৭০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায়। চলতি সেপ্টেম্বরের শেষে দিকে তাঁর কিডনি প্রতিস্থাপনের কথা ছিল। এ জন্য তাঁর প্রবাসী বাবা-মা সন্তানকে নিয়ে কেরালায় ফিরে যান। কিন্তু পর পর দুইবার সাময়িক সময়ের জন্য তাঁর হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। গত ৭ সেপ্টেম্বর সান্দ্রা মারা যান। তবে মারা যাওয়ার আগে অন্যদের অনুপ্রাণিত করার মতো কীর্তি রেখে গেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শারীরিক অসুস্থতার কারণে দ্বাদশ শ্রেণির কোনো ক্লাসে অংশ নিতে পারেননি সান্দ্রা। এমনকি চূড়ান্ত পরীক্ষাও দিতে হয়েছে অন্য লেখকের সাহায্য নিয়ে। তারপরেও ৭৫ শতাংশ নম্বর তুলে তিনি কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বরধারী হন। নিজের পছন্দের বিষয় মনোবিজ্ঞানে পান ৮৫ শতাংশ নম্বর। শৈশবে বিমানবালা হতে চাওয়া মেয়েটি শেষ পর্যন্ত হতে চেয়েছিলেন মনোবিদ। নিজের রোগের কারণেই তাঁর এই লক্ষ্য পরিবর্তন বলে জানিয়েছেন তাঁর স্কুলের প্রধান শিক্ষক। সান্দ্রার পড়তেন শারজা ইন্ডিয়ান স্কুলে। তিনি সেখানে বাবা-মা ও ছোট বোনের সঙ্গে থাকতেন। তাঁর মা আমিরাতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে সেবিকা হিসেবে কর্মরত।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সান্দ্রার প্রতি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তাঁর স্কুলের শিক্ষকেরা। গালফ নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করে শারজা ইন্ডিয়ান স্কুলের অধ্যক্ষ প্রমোদ মহাজন বলেন, ‘সান্দ্রা একজন যোদ্ধা ছিলেন। এমন অসুখে থাকা মেয়েটি শেষ পর্যন্ত লেখাপড়া চালিয়ে গিয়েছে। পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি চেয়ে আমাকে অনুরোধ করেছিল। তখন সান্দ্রা বলেছিল, তিনি হারবেন না। তাঁর নিজের লেখার মতো অবস্থা ছিল না। এ জন্য একজন লেখক দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। এ জন্য বিশেষ অনুমতি নিতে হয়েছিল। সান্দ্রা তাঁর কথা রেখেছে। ক্লাস না করেও ৭৫ শতাংশ নম্বর অর্জন করেছে সে। আর নিজের আগ্রহের বিষয় মনোবিজ্ঞানে এই স্কোর ছিল ৮৫।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন