প্রতিরোধযোদ্ধা হিসেবে বাবাকে সন্দেহ করে শিশুকে হত্যা করল তালেবান
আফগানিস্তানের তখর প্রদেশে এক শিশুকে তালেবান নির্মমভাবে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শিশুটির বাবা তালেবানবিরোধী আফগান প্রতিরোধ বাহিনীর সদস্য বলে সন্দেহ করা হয়। এ সন্দেহের জেরে তাঁর সন্তানকে হত্যা করে তালেবান। আজ মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
শিশুহত্যার এ খবর প্রকাশ করেছে পানশির অবজারভার নামের একটি গণমাধ্যম। এটি একটি স্বাধীন গণমাধ্যম। গণমাধ্যমটি পানশিরসহ আফগানিস্তানের খবরাখবর পরিবেশন করে থাকে।
পানশির অবজারভার এক টুইটে বলেছে, তখর প্রদেশে এক বাবাকে প্রতিরোধ বাহিনীর সদস্য হিসেবে সন্দেহ করার পর তাঁর শিশুসন্তানকে হত্যা করেছেন তালেবান যোদ্ধারা।
১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তালেবান ক্ষমতায় ছিল। তখন তারা নৃশংসতার জন্য কুখ্যাতি কুড়ায়। তালেবান এবার ক্ষমতা দখলের পর বলে, তারা অতীতের মতো কট্টরপন্থায় দেশ চালাবে না। কিন্তু তালেবানের কার্যক্রমের সঙ্গে তাদের কথার মিল পাওয়া যাচ্ছে না।
গত শনিবার দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর হেরাতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ চার অপহরণকারী নিহত হয়। তারপর তাদের লাশ ক্রেনে ঝুলিয়ে শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘোরায় তালেবান। তালেবানের ক্ষমতা নেওয়ার পর আফগানিস্তানে এটাই ছিল প্রথম কঠোরতম কোনো শাস্তির ঘটনা।
গত ১৫ আগস্ট তালেবানের হাতে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের পতন হয়। ৩০ আগস্ট কাবুল ত্যাগ করে সবশেষ মার্কিন সেনা। চলতি মাসের শুরুর দিকে তালেবান সরকার গঠনের ঘোষণা দেয়।
তালেবান কাবুল নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর দেশটির পার্বত্য এলাকা পানশিরে স্থানীয় নেতা আহমেদ মাসুদের নেতৃত্বে তালেবানবিরোধী প্রতিরোধযুদ্ধ গড়ে তোলা হয়। মাসুদের নেতৃত্বাধীন মিলিশিয়াদের সঙ্গে আফগান সামরিক বাহিনীর কমান্ডারদের একাংশ মিলে গঠন করা হয় ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (এনআরএফ)।
পানশির পুরোপুরি দখলে নেওয়ার দাবি করে তালেবান। কিন্তু তালেবানের এই দাবি অস্বীকার করে এনআরএফ। একই সঙ্গে তারা বলে, তালেবানের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে।