বিক্ষোভের মুখে কিরগিজ প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ
টানা বিক্ষোভের মুখে কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সুরনবাই জেনবেকোভ পদত্যাগ করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার পদত্যাগ করেন তিনি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
বিতর্কিত নির্বাচনের জেরে সুরনবাই জেনবেকোভের পদত্যাগের দাবিতে দেশটিতে টানা ১০ দিন ধরে বিক্ষোভ হয়ে আসছে। তাঁর পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশটিতে চলমান অস্থিরতার অবসান ঘটতে পারে।
জাতীয়তাবাদী প্রতিদ্বন্দ্বী সাদির জাপারভের (৫১) কাছে ক্ষমতা ছেড়ে দেন জেনবেকোভ। গত সপ্তাহেই জাপারভকে জেল থেকে মুক্ত করে আনেন তাঁর সমর্থকেরা।
চলতি সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাপারভের নাম ঘোষণা করা হয়। কিন্তু তাঁকে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন সুরনবাই জেনবেকোভ। শেষ পর্যন্ত তিনি পদত্যাগে বাধ্য হলেন।
মধ্য এশিয়ার ছোট এই দেশে ২০০৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত তিনজন প্রেসিডেন্ট বিক্ষোভের মুখে ক্ষমতা হারিয়েছেন।
পদত্যাগের বিষয়ে জেনবেকোভ গতকাল একটি বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে কোনো ধরনের সংঘাত-সহিংসতা তিনি চান না। নিজ দেশের জনগণের ওপর গুলি চালিয়ে কিরগিজস্তানের ইতিহাসে খারাপ প্রেসিডেন্ট হিসেবে চিহ্নিত হতে চান না তিনি। তাই পদত্যাগ করছেন।
সুরনবাই জেনবেকোভের পদত্যাগে জাপারভের সমর্থকেরা উল্লাস প্রকাশ করেছেন। জাপারভ তাঁর সমর্থকদের উদ্দেশে বলেছেন, তিনি প্রেসিডেন্টের সব ক্ষমতা গ্রহণ করেছেন।
৪ অক্টোবর দেশটিতে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনের পর থেকেই দেশটিতে অস্থিরতা শুরু হয়।
নির্বাচনে জেনবেকোভের মিত্র দলগুলোকে জয়ী ঘোষণা করা হয়। কিন্তু বিরোধীরা এই নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম-জালিয়াতির অভিযোগ আনে। তারা এই অভিযোগে দেশটির রাজধানীতে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে এই বিক্ষোভ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা দেশটির পার্লামেন্ট ভবনে ভাঙচুর চালায়। এ তারা বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় হামলা-অগ্নিসংযোগ করে।
ব্যাপক চাপের মুখে পার্লামেন্ট নির্বাচনের ফল বাতিল করে কর্তৃপক্ষ।
বিক্ষোভের মুখে গত সপ্তাহে কিরগিজস্তানের প্রধানমন্ত্রী কুবাটবেক বরোনভ পদত্যাগ করেন।
জাপারভ কারাগারে ছিলেন। গত সপ্তাহে তাঁকে তাঁর সমর্থকেরা কারাগার থেকে বের করে আনেন।