বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সমালোচিত ২ হাজার ব্যক্তি ভানুয়াতুর নাগরিকত্ব নিয়েছেন। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক নিষিদ্ধ সিরিয়ার ব্যবসায়ী, উত্তর কোরিয়ার সন্দেহভাজন রাজনীতিবিদ, অর্থ পাচারে অভিযুক্ত ইতালির ব্যবসায়ী, কুখ্যাত অস্ট্রেলিয়ান মোটরসাইকেল গ্যাং এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলার ক্রিপ্টোকারেন্সি ডাকাতির মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরাও রয়েছেন।

এক মাসের মধ্যে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে বসে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার খরচ করে যে কেউ দ্বীপরাষ্ট্রটির নাগরিক হতে পারবেন। পাসপোর্ট তৈরিতে সহায়তা করতে দেশটিতে বেশ কিছু এজেন্সি বিভিন্ন স্কিম সুবিধা দিচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত, সস্তা ও সহজ স্কিম হলো ‘গোল্ডেন পাসপোর্ট’। এই পাসপোর্ট সুবিধা নিয়ে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসহ ১৩০টি দেশে ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করা যাবে।

একদিকে সহজ নাগরিকত্ব সুবিধা থাকা, অপরদিকে আয়কর, করপোরেট ও সম্পত্তির কর না থাকায় দেশটি ইতিমধ্যে বিশ্বে ‘ট্যাক্স হ্যাভেন’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
বিশ্বের অনেক দেশেই ‘বিনিয়োগের বদলে নাগরিকত্ব’ (সিবিআই) দেওয়া একটি বৈধ প্রক্রিয়া। তবে চলাফেরার স্বাধীনতা, করমুক্ত অফশোর ব্যাংকিংয়ের মতো সুযোগ-সুবিধার কারণে ছোট দেশটির নাগরিকত্ব নেওয়ার জন্য বিশ্বব্যাপী আগ্রহ বেড়েছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে।

২০২০ সালে প্রায় ২ হাজার ২০০ পাসপোর্ট ইস্যু করেছে ভানুয়াতু। যার অর্ধেকের বেশি চীনা নাগরিক। এরপর নাইজেরিয়া, রাশিয়া, লেবানন, ইরান, লিবিয়া, সিরিয়া ও আফগানিস্তানের নাগরিক। গত বছর পাসপোর্ট নেওয়া নাগরিকদের মধ্যে ২০ জন যুক্তরাষ্ট্রের, ৬ জন অস্ট্রেলিয়ার এবং অবশিষ্টদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ইউরোপের দেশের নাগরিক।

এসব ঘটনায় বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, এ ধরনের ঘটনায় বিশ্বে শোষণ আরও বাড়বে। কারণ, পাসপোর্ট নেওয়ার পর যে কেউ সহজেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করতে পারবে। এর ফলে আন্তর্দেশীয় অপরাধী চক্র প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ঘাঁটি স্থাপন করতে পারে। এ ছাড়া ভানুয়াতুর কর আইনের কারণে দেশটিতে মানি লন্ডারিংয়ে আগ্রহ বাড়বে।

বিশ্ব ব্যাংকের হিসাবে, বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ ভানুয়াতুর মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৭৮০ মার্কিন ডলার। দেশটি বর্তমানে প্রচণ্ড ঋণের চাপে আছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশটিতে ২০১৪ সালে ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড় হয়। এ কারণে ২০১৮ সালে দেশটিতে মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ২৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

পাসপোর্ট বিক্রি সরকারের আয়ের অন্যতম বড় উৎস। অভিবাসন বিনিয়োগ নিয়ে গবেষণা করা প্রতিষ্ঠান ‘ইনভেস্টমেন্ট মাইগ্রেশন ইনসাইডার’-এর এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২০ সালে সরকারি আয়ের প্রায় ৪২ শতাংশ এই খাত থেকে এসেছে।
এমনকি করোনা মহামারির মধ্যেও চলতি বছরের জুন মাসে উদ্বৃত্ত বাজেট ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। নাগরিকত্বের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় তাদের আয় বাড়ছে, আর এই অর্থ দেশটির ঋণ পরিশোধে ব্যয় করছে সরকার।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন