বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সেনা প্রত্যাহারের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে গত মে মাসে। এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই জারাঞ্জ, সেবারঘান, কুন্দুজ, সার-ই-পল, তালুকান ও আইবাক—ছয়টি প্রাদেশিক রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন তালেবান যোদ্ধারা। প্রতিবেশী দেশগুলোর সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকাও এখন তাঁদের নিয়ন্ত্রণে। তীব্র লড়াই চলছে বেশ কয়েকটি শহরে। যেকোনো মুহূর্তে রাজধানী কাবুলের পতন ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা জোরদার হচ্ছে।

আফগানিস্তানের বর্তমান অবস্থা এতটাই বিপজ্জনক যে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য গত শনিবার তাদের নাগরিকদের দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি যত ঘোলাটেই হোক, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে মার্কিন সেনাদের সে দেশ থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার ব্যাপারে অনড় যুক্তরাষ্ট্র। এর অন্যতম কারণ, দেশটি আফগানিস্তানে তাদের দীর্ঘ দুই দশকের যুদ্ধকে আর টেনে নিতে চায় না। ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা হওয়ার পর আফগানিস্তানে তথাকথিত সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান শুরু করে তারা। তাতে একপর্যায়ে ওই সময়ে ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারের পতনও ঘটে।

তালেবান সরকারের পতন ঘটলেও গত দুই দশকে আফগানিস্তানে শান্তি ফেরেনি। দেশটি বরাবর অস্থিতিশীলতার মধ্যে কাটিয়েছে। এ অবস্থার মধ্যেই নিজেদের সংগঠিত করেছে তালেবান। সুসংগঠিত ও সশস্ত্র ইসলামপন্থী সংগঠনটির সদস্যদের হামলায় গত শুক্রবার রাজধানী কাবুলে আফগান সরকারের মিডিয়া সেন্টারের প্রধান দাওয়া খান মেনাপল নিহত হয়েছেন। গত সপ্তাহে প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দায়ও স্বীকার করেছে সংগঠনটি। তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকায় তিনি প্রাণে বেঁচে গেছেন।

কাবুলে মার্কিন দূতাবাস শনিবার বলেছে, আফগানিস্তানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে দেশটি ছাড়া উচিত। একজন মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা ফিন্যান্সিয়াল টাইমস পত্রিকাকে বলেন, মার্কিন নাগরিকদের প্রতি এ নির্দেশনা এটিই ইঙ্গিত করছে যে আফগানিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে।

বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, আফগানিস্তানে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার ফলে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ বাধতে পারে কিংবা দেশটি ভেঙে টুকরা হতে পারে। আবার তালেবান পুনরায় ক্ষমতাসীন হতে পারে; উল্টো পথে হাঁটতে পারে নাগরিক স্বাধীনতাও।
যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক সাবেক মন্ত্রী ররি স্টুয়ার্ট আফগানিস্তানে বেশ কয়েক বছর থেকেছেন। তালেবানের পুনরুত্থানের পেছনে যাঁরা বাইডেনের মার্কিন সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহারের ‘বেপরোয়া সিদ্ধান্তের’ সমালোচনা করেন, তিনি তাঁদের একজন। মার্কিন সেনা প্রত্যাহার শুরু করাকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘মূলত গত দুই মাসে আমরা আফগান জনগণের পায়ের নিচ থেকে মাটি সরিয়ে ফেলেছি। এটি ভয়ংকর, আতঙ্কজনক ট্র্যাজেডি ও লজ্জার।’

প্রসঙ্গত, তালেবান যোদ্ধারা অতিরক্ষণশীল ভাবধারার অনুসারী। তাঁরা আফগানিস্তানে ইসলামি আইন প্রতিষ্ঠা করতে চান। মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর প্রতিরোধের মুখে দেশটি থেকে একসময় তল্পিতল্পা গুটিয়ে চলে গিয়েছিল সাবেক সোভিয়েত বাহিনী। পরে আফগান সরকারের দুর্নীতি, অনিয়ম এবং মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর অন্তর্দ্বন্দ্বে দেশটিতে নতুন করে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা ও হানাহানি। সে সময় সরকারের দুর্নীতি ও চলমান বিশৃঙ্খলার অবসান ঘটানোর প্রত্যয়ে উত্থান ঘটে তালেবানের। এরপর ১৯৯০–এর দশকের শেষে ক্ষমতায় আসে তারা। এবার আবারও ক্ষমতায় ফেরার পথে রয়েছে তারা।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন