default-image

ইবনে আবদুর রেহমান (আই এ রেহমান) কয়েক দশক ধরে দক্ষিণ এশিয়ার নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সম্প্রদায়ের একজন কিংবদন্তি ছিলেন। তাঁর কাজের প্রভাব পুরো অঞ্চলজুড়ে অনুভূত হয়েছে। তিনি তাঁর উঁচু মানের মূল্যবোধ, অন্তর্নিহিত মর্যাদা, সততা, স্পর্ধিত লিখনকৌশল ও নির্ভীক অ্যাডভোকেসি কৌশলের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। পাকিস্তানের খ্যাতিমান মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক, কলাম লেখক আই এ রেহমানের মৃত্যুতে শোক ও তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এসব কথা বলেছে সাউথ এশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস (এসএএইচআর)।

আই এ রেহমান ১২ এপ্রিল লাহোরে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তাঁর মৃত্যুতে এসএএইচআরের পক্ষ ১৩ এপ্রিল শোক ও শ্রদ্ধা জানান সংস্থার চেয়ারপারসন রাধিকা কুমারাস্বামী ও কো-চেয়ারপারসন রশ্মি গোস্বামী।

আই এ রেহমান সম্পর্কে বলা হয়, তিনি এসএএইচআরের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। ছিলেন ব্যুরো সদস্য। তিনি একজন উপদেষ্টা ও পরামর্শদাতা হিসেবে এই সংস্থার দীর্ঘদিনের শক্তির স্তম্ভ ছিলেন। তিনি সব সময় এই সংস্থার মঙ্গল কামনা করেছেন। দক্ষিণ এশিয়ার মানবাধিকার কমিউনিটির জন্য তিনি তাঁর সেরা কাজ করার চেষ্টা করে গেছেন।

আই এ রেহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলা হয়, তিনি পাকিস্তানের পাশাপাশি এই অঞ্চলের মানবাধিকার, শান্তি ও জনগণের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার ক্ষেত্রে কখনোই তাঁর কথাকে কাজে পরিণত করতে দ্বিধা করেননি। তাঁর মৃত্যুতে পাকিস্তানি অধিকারকর্মী সালি‍মা হাশমি ঠিকই কথাই বলেছেন, ‘আজ একজন মানুষ নয়; একটি আন্দোলন, পুরো একটা যুগের অবসান হলো।’

বিজ্ঞাপন

শ্রদ্ধা জানিয়ে বলা হয়, আই এ রেহমান তাঁর নিজ দেশ ও এই অঞ্চলের মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে গেছেন। তাঁর পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি এসএএইচআরের সদস্যরা গভীর সমবেদনা জানান। তাঁরা একজন সাহসী বন্ধু, পরামর্শদাতা ও মানবাধিকারকর্মীকে হারিয়েছেন। যিনি সারা জীবন মানুষের মানবাধিকার রক্ষার জন্য কাজ করে গেছেন।

এই অঞ্চলে মানবাধিকার ও শান্তি রক্ষায় আই এ রেহমানের ভালো কাজগুলো অব্যাহত রাখতে এসএএইচআরের সদস্যরা কঠোর পরিশ্রম করবেন। তাঁরা আই এ রেহমানের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছেন।

আই এ রেহমান হিউম্যান রাইটস কমিশন অব পাকিস্তানের (এইচআরসিপি) সহপ্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। পরে তিনি এইচআরসিপির পরিচালক ও মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন।

আই এ রেহমান ছিলেন একজন প্রবীণ সাংবাদিক। তিনি প্রায় ৬৫ বছর সাংবাদিকতা করেছেন। তিনি ‘পাকিস্তান টাইমস’-এর এডিটর ইন চিফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। উর্দু ভাষার ‘দৈনিক আজাদ’-এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ছিলেন তিনি। সাপ্তাহিক ‘ভিউ পয়েন্ট’-এর নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি পাকিস্তানের ‘ডন’ পত্রিকায় নিয়মিত কলাম লিখতেন। তাঁর তিনটি বই রয়েছে।

আই এ রেহমান ২০০৩ সালে নুরেমবার্গ ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস পুরস্কার ও ২০০৪ সালে এশিয়ার নোবেলখ্যাত র‌্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পান।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন