ধর্মীয় নেতা ও উপজাতি নেতাদের ওই সমাবেশে হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা বলেছিলেন, আফগানিস্তান নিয়ে নাক গলানো বিশ্বের উচিত নয়। কারণ, তালেবান ক্ষমতায় থাকলে দেশ অন্য কারও নির্দেশনা গ্রহণ করবে না।

আমেরিকানদের উদ্দেশ করে আখুন্দজাদা বলেছিলেন, ‘আফগানিস্তানে তোমরা সব বোমার মা (মাদার অব অল বোম্বস) নিক্ষেপ করেছিল। এমনকি তোমরা যদি আমাদের বিরুদ্ধে পারমাণবিক বোমাও নিক্ষেপ করো, আমরা ইসলাম ও শরিয়াহ থেকে সরে আসব না।’

গতকাল বুধবার প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নাম নেন তালেবানপ্রধান। ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইসলামিক আমিরাতের ভালো সম্পর্কের বিষয়েও তাঁর ইচ্ছার কথা ব্যক্ত করেন।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেওয়া বিবৃতিতে আখুন্দজাদা বলেন, ‘পারস্পরিক যোগাযোগ ও অঙ্গীকারের কাঠামোয় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের সঙ্গে আমরা ভালো কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক চাই। আমরা মনে করি, সব পক্ষের স্বার্থেই এটা দরকার।’

তালেবানের মুখপাত্র জাবিহউল্লাহ মুজাহিদ একাধিক ভাষায় এই বিবৃতি পেশ করেন। এতে আফগানিস্তানের মাটি প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে ব্যবহারে তাঁদের উদ্বেগ প্রশমিত করারও চেষ্টা করেছেন তালেবানপ্রধান।

আখুন্দজাদা বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেশী, এই অঞ্চল এবং বিশ্বকে আমরা আশ্বস্ত করছি, অন্য কোনো দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টিতে আমরা কাউকে আমাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেব না। আমরাও চাই, অন্য কোনো দেশ আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না।’

পাকিস্তান দীর্ঘ সময় ধরে বলে আসছে, দেশটির সীমান্তচৌকিগুলোয় হামলা চালাতে আফগানিস্তের ভূখণ্ড ব্যবহার করছে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো।

পাকিস্তানের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে তেহরিক–ই–তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে আফগান তালেবান সরকার। তবে কয়েক দফা বৈঠক হলেও সামন্যই অগ্রগতি হয়েছে। অবশ্য উভয় পক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য অস্ত্রবিরতি পালন করে আসছে।

বিবৃতিতে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোর প্রতি জোর দিয়েছেন তালেবানপ্রধান। তবে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে মেয়েদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার বিষয়ে কোনো কিছু বলেননি তিনি।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মেয়েদের মাধ্যমিক বিদ্যালয় খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে। তালেবান মেয়েদের মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু মার্চে পুনরায় মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার কথা থাকলেও সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে তারা।

আখুন্দজাদা বলেন, ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি শিশুদের আধুনিক শিক্ষার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে শিক্ষায় নজর দিচ্ছে তালেবান সরকার। ইসলামিক আমিরাত এর গুরুত্ব অনুধাবন করছে এবং উত্তরোত্তর উন্নতিতে তারা কঠোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন