হামলার সময় দেশবন্ধু সাধারণ পোশাকে ছিলেন। তাঁর সঙ্গে দুই পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন।

করোনার ধাক্কার পাশাপাশি সরকারের কিছু ভুল সিদ্ধান্তে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক দুর্দশার মুখে পড়েছে শ্রীলঙ্কা। কয়েক মাস ধরে খাবার, জ্বালানি ও ওষুধের তীব্র সংকটে দেশটি। ব্যাপকভাবে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, চলছে বিদ্যুৎ-বিভ্রাট। এ পরিস্থিতিতে সরকার পতনের দাবিতে এক মাসের বেশি সময় ধরে দেশটিতে বিক্ষোভ চলছে।

গতকাল সোমবার মাহিন্দা রাজাপক্ষের সমর্থক ও সরকারবিরোধীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ সংঘর্ষের সময় রাজধানীর নিরাপত্তাব্যবস্থার দায়িত্বে ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা টেনাকুন। সরকারপন্থীদের সমর্থন দেওয়ার অভিযোগে আজ তাঁর ওপর হামলা চালান বিক্ষোভকারীরা।

গত সংঘর্ষের একপর্যায়ে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য অমরাকীর্থি আথুকোরালা রাজধানী কলম্বোর উপকণ্ঠে বিক্ষোভকারীদের অবরোধের মুখে পড়েন। এ সময় দুই বিক্ষোভকারীকে গুলি করেন তিনি। এতে ২৭ বছর বয়সী এক যুবক মারা যান। এ সময় সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা তাঁকে ঘিরে ধরেন। পরে নিজের পিস্তল দিয়ে গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন ওই সংসদ সদস্য।

তুমুল বিক্ষোভের মুখে গতকালই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পদত্যাগে বাধ্য হন মাহিন্দা রাজাপক্ষে। জারি করা কারফিউ। কিন্তু তাতেও জনরোষ কমেনি। গতকাল রাতে হাজারো বিক্ষোভকারী রাজাপক্ষের বাসভবনের মূল ফটক ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়েন। তাঁরা রাজধানীর ‘টেম্পল ট্রিজ’ বাসভবনের মূল দোতলা ভবনে হামলার চেষ্টা করেন।

কয়েকজন মন্ত্রী ও এমপিদের বাড়িতে হামলা চালানোর পর আগুনে ধরিয়ে দেওয়া হয়। হাম্বানটোটায় রাজাপক্ষে পরিবারের বাড়িতেও হামলা করা হয়।

আজ মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চলমান সহিংসতায় এখন পর্যন্ত সাতজন নিহত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে দেশটিতে চলমান কারফিউ কাল বুধবার সকাল পর্যন্ত বাড়িয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন