মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির ডান হাত হিসেবে পরিচিত ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি)  নেতা উইন হেটেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে
মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির ডান হাত হিসেবে পরিচিত ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) নেতা উইন হেটেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছেছবি: এএফপি

মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির ডান হাত হিসেবে পরিচিত ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) এক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ইয়াঙ্গুনে মেয়ের বাসা থেকে তিনি গ্রেপ্তার হন। তিনি পুলিশ হেফাজতে আছেন বলে জানিয়েছে এনএলডি।

এএফপির খবরে জানা যায়, সু চির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে জানিয়েছে, দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা উইন হেটেন গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে নেপিডো থেকে ইয়াঙ্গুনে গেছেন। সেখানে মেয়ের বাড়ি থেকে গতকাল মাঝরাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এনএলডির প্রেস কর্মকর্তা কি টোয়ে বলেন, তাঁকে নেপিডোতে পুলিশ স্টেশনে আটক করে রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

৭৯ বছরের উইন হেটেন দীর্ঘসময় রাজবন্দী ছিলেন। জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তাঁকে বিভিন্ন সময়ে আটক করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ও মিয়ানমারের গণমাধ্যমে সু চি কী ভাবছেন তা তাঁর মাধ্যমে জানার চেষ্টা করা হয়।

সু চিকে গ্রেপ্তারের আগে উইন হেটেন স্থানীয় ইংরেজি গণমাধ্যমকে বলেন, সেনাবাহিনী অবিবেচকের মতো কাজ করছে। সেনাবাহিনী দেশকে ভুল পথে নিয়ে যাচ্ছে। সেনা অভ্যুত্থানের পর তিনি বলেন, সেনাবাহিনী আমাদের সরকারকে ধ্বংস করে পেছনের দিকে নিয়ে যেতে চাইছে। দেশের প্রত্যেককে যতটা সম্ভব প্রতিবাদ জানাতে হবে।

অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনারস নামে ইয়াঙ্গুনভিত্তিক একটি দল মিয়ানমারে রাজনৈতিক নেতাদের আটকের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে। তাঁরা বলছে, সেনা অভ্যুত্থানে মিয়ানমারের ১৩০ জনেরও বেশি কর্মকর্তা ও আইনপ্রণেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মিয়ানমারে ফেসবুক পরিষেবা বাধাগ্রস্ত করতে টেলিকম অপারেটরদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফেসবুকের মাধ্যমে মিয়ানমারের লাখ লাখ মানুষ নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে থাকে।

গত সোমবার মিয়ানমারে অভ্যুত্থান করে দেশটির সেনাবাহিনী। সু চির নেতৃত্বাধীন এনএলডির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করেছে তারা। সেনা কর্তৃপক্ষ দেশটিতে এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করেছে। সু চিসহ দেশটির শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার ও আটকের ঘটনায় গতকাল দেশটির ৩০টি শহরের ৭০টি হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীরা ধর্মঘট শুরু করেছেন।

মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি কোথায় ও কী অবস্থায় আছেন, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়।

সু চির বিরুদ্ধে গতকাল বেশ কয়েকটি অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। এসব অভিযোগে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রিমান্ডে থাকবেন সু চি। অবৈধভাবে আমদানি করা ওয়াকিটকি রাখার অভিযোগে করা মামলায় সু চির দুই বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

পশ্চিমা দেশগুলো মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়েছে।জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থান ব্যর্থ করতে বিশ্বসম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করবে বলে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

বিজ্ঞাপন
এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন