ফুকুশিমার তেজস্ক্রিয় কণা মিশ্রিত পানি সাগরে ফেলবে জাপান
জাপানে ধ্বংস হওয়া ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১৩ লাখ টনের বেশি পানি সমুদ্রে ছেড়ে দেওয়া হবে। চলতি বছরই পানি সমুদ্রে ছাড়ার কথা জানিয়েছে জাপানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তারা বলছে, ওই পানিতে যে পরিমাণ তেজস্ক্রিয় কণা ছিল তা কমে জাপানের তেজস্ক্রিয় সহনশীল মাত্রায় নেমে আসায় এই সিদ্ধান্তে নেওয়া হয়েছে।
তবে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) বলছে, জাপান যে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে তা নিরাপদ। তবে প্রতিবেশী দেশগুলো এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
২০১১ সালে জাপানের এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিস্ফোরণ হয়েছিল। এই বিস্ফোরণ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে এতে সৃষ্ট ভূকম্পন পরে সুনামিতে রূপ নেয়। বলা হয়ে থাকে ১৯৮৬ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে চেরনোবিল পারমাণবিক কেন্দ্রের বিস্ফোরণের পর এটি সবচেয়ে বড় বিস্ফোরণ।
ফুকুশিমার বিস্ফোরণের এক বছর পর এই বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে ২০১৯ সালে এটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হয়। যদিও এই কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন করতে সময় লাগতে পারে প্রায় চার দশক। এরই মধ্যে সেখানকার তেজস্ক্রিয় কণা মিশ্রিত পানি সাগরে ছেড়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলো।
এ প্রসঙ্গে জাপানের চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি হিরোকাজু মাতসুনো গতকাল শুক্রবার বলেন, চলতি বছরের বসন্ত বা গ্রীষ্মে এই পানি ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। তবে এর আগে আইএইএর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পেতে চান তাঁরা। এই প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত তাঁরা অপেক্ষা করবেন।
ফুকুশিমা পারমাণবিক কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০০ ঘনমিটার পানি পাওয়া যেত। ভূগর্ভস্থ পানি, সাগরের পানি ও পারমাণবিক চুল্লি রিঅ্যাকটর শীতল করার কাজে ব্যবহৃত পানির মিশ্রণ এই পানি। এই পানিতে তেজস্ক্রিয় কণা মিশ্রিত থাকত। তবে এ পানি পরিশোধনের পর তা সংরক্ষণ করা হতো। প্রতিদিনের ব্যবহারের ফলে সেখানে ১৩ লাখ ঘনমিটার পানি জমেছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রে পানি সংরক্ষণের মতো আর জায়গা নেই।
এখনো ঝুঁকি রয়েছে
এদিকে পরিশোধন করা হলেও ওই পানিতে তেজস্ক্রিয় আইসোটপ রয়েই গেছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের আধারে জমা রাখা ওই পানিতে হাইড্রোজেনের আইসোটোপ ট্রিটিয়াম এখনো এমন পরিমাণে রয়ে গেছে যা জাপানের তেজস্ক্রিয়তা সহনশীলতার আদর্শিক মানের চেয়ে বেশি। জাপানের টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি (টেপকো) এই তথ্য জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পানি থেকে ট্রিটিয়াম সরিয়ে নেওয়া খুব কঠিন। এই কণা তখনই মানুষের জন্য ক্ষতিকর, যখন এ তেজস্ক্রিয় কণা মিশ্রিত পানি বেশি পরিমাণে ব্যবহার করা হবে।
ফলে জাপান সরকারের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করছে প্রতিবেশী দেশ ও স্থানীয় জেলেরা। এ প্রসঙ্গে প্যাসিফিক আইসল্যান্ড ফোরামের সেক্রেটারি জেনারেল হেনরি পুনা বলেন, ২০২১ সালে সম্মেলনে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা ভঙ্গ করছেন জাপানের নেতারা।