সিঙ্গাপুরে দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ আত্মহত্যা ২০২২ সালে

নগররাষ্ট্র সিঙ্গাপুরে গত বছরের তুলনায় আত্মহত্যার সংখ্যা ২৬ শতাংশ বেড়েছে, যা দেশটিতে গত দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। আত্মহত্যা প্রতিরোধে কাজ করে এমন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সামারিটানস অব সিঙ্গাপুর (এসওএস) তাদের বার্ষিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পরিসংখ্যানসহ এ তথ্য জানায়।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ২০২২ সালে আত্মহত্যাকারীর সংখ্যা ৪৭৬। ২০০০ সালের পর এ সংখ্যা সর্বোচ্চ। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৩৭৮। এই সংখ্যা দেশটিতে ‘অদেখা মানসিক যন্ত্রণার’ বিষয়টির প্রতিফলন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে ১০ থেকে ২৯ বছর বয়সী শিশু–কিশোর ও তরুণের সংখ্যা বেশি। আর বয়স্কদের মধ্যে ৭০–৭৯ বছর বয়সীদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি।

প্রবীণ মনোরোগবিশেষজ্ঞ এবং মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শদাতা জ্যারেড এনজি বলেন, ‘আত্মহত্যাকারীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি খুবই হৃদয়বিদারক। এটি আমাদের সমাজে, বিশেষ করে তরুণ ও বৃদ্ধরা যে কী পরিমাণ অদেখা মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যায়, তা তুলে ধরেছে।’

জ্যারেড এনজি বলেন, ‘সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং একাকিত্বের মতো বিষয়গুলো, যা মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি করে, এমন বিষয়গুলোতে আমাদের সতর্ক থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

এসওএস জানায়, সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যা করে ১০ থেকে ২৯ বছর বয়সী শিশু–কিশোর ও তরুণেরা। এদের সংখ্যাটা মোট আত্মহত্যাকারীর ৩৩ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০২২ সালে এই বয়সীদের আত্মহত্যার সংখ্যা ১২৫, যা আগের বছর ছিল ১১২।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বৈশ্বিকভাবে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী কিশোর–তরুণদের যেসব কারণে মৃত্যু হয়, এর মধ্যে চতুর্থ প্রধান কারণ আত্মহত্যা।

আর দেশটিতে ৭০ থেকে ৭৯ বছর বয়সীদের মধ্যে গত বছর আত্মহত্যা করে ৪৮ জন। আগের বছরের তুলনায় এটি ৬০ শতাংশ বেশি।

সিঙ্গাপুরে জন্মহার অনেক কম। সেখানে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে চারজন সিঙ্গাপুরবাসীর মধ্যে একজনের বয়স ৬৫ বা তার বেশি হবে, যা তিন বছর আগে ছয়জনের মধ্যে একজন ছিল।

এসওএসের প্রধান নির্বাহী গ্যাসপার তান বলেন, আত্মহত্যা একটি জটিল সমস্যা, যা মানসিক স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ, সামাজিক চাপ এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাসহ বিভিন্নভাবে প্রভাবিত।

বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর সাত লাখের বেশি মানুষ আত্মহত্যা করে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে।