লিবারেশন অব তামিল টাইগার্স ইলম (এলটিটিই) নামের তামিলদের এ সশস্ত্র সংগঠন দেশটির উত্তর ও পূর্বাঞ্চল ঘিরে স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য সশস্ত্র আন্দোলন করছিল। কিন্তু ২৬ বছরের গৃহযুদ্ধ শেষে ২০০৯ সালে এলটিটিই পরাজয় স্বীকার করে। জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, এ যুদ্ধের শেষ কয়েক মাসে ৪০ হাজার তামিল বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। তামিলদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযান তত্ত্বাবধান করেছিলেন গোতাবায়া রাজাপক্ষে।

এ গৃহযুদ্ধ শেষ করার জন্য দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ সিংহলি বৌদ্ধদের চোখে নায়ক গোতাবায়া। তবে সেই সময়ের হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও গুমের জন্য অন্যদের চোখে তিনি একজন যুদ্ধাপরাধী। যদিও এসব অভিযোগ তিনি বরাবরই অস্বীকার করেছেন।

২০১৫ সালে মাহিন্দা রাজাপক্ষে ক্ষমতা হারালে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ ছাড়েন গোতাবায়া। কিন্তু ২০১৯ সালে দেশটিতে সন্ত্রাসী হামলার পর আবারও ক্ষমতায় ফেরে রাজাপক্ষে পরিবার। একজন দুবারের বেশি প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না—এ সীমাবদ্ধতার কারণে মাহিন্দা সেই সময় প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি। ফলে গোতাবায়া প্রেসিডেন্ট হন।

২০১৯ সালের ওই নির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন গোতাবায়া। ওই সময় তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, জাতিসত্তা বা ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি সবার প্রতিনিধিত্ব করবেন। কিন্তু তাঁর সেই প্রতিশ্রুতি বেশি দিন টেকেনি। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়েছে। এর একটি মামলায় বলা হয়েছে, একজন সাংবাদিককে তুলে নিয়ে হত্যার সঙ্গে তিনি জড়িত। এ ছাড়া তামিল জাতিগোষ্ঠীর এক ব্যক্তিকে নির্যাতনে সহযোগিতার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। যদিও এ দুই অভিযোগই তিনি অস্বীকার করেছেন।

এরপর ২০২০ সালের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা বাড়ে গোতাবায়ার দল শ্রীলঙ্কা পদুজানা পেরামুনার (এসএলপিপি)। এতে সংবিধান সংশোধনের সুযোগ পায় দলটি। এরপর প্রধানমন্ত্রী পদে মাহিন্দাকে বসান গোতাবায়া। এ ছাড়া আরেক ভাই বাসিলসহ আত্মীয়দের মন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসান তিনি।

কিন্তু বেশি দিন ক্ষমতা আঁকড়ে বসে থাকতে পারল না রাজাপক্ষ পরিবার। করোনা মহামারি ও কর কমানোর কারণে ১৯৪৮ সালে স্বাধীনতার পর সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়ে দেশটি। এতে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়, জ্বালানি আমদানি করতে না পারায় বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা দেয় এবং আমদানি করা ওষুধের ঘাটতি দেখা দেয়। এর প্রতিবাদে জনগণ রাস্তায় নামে চলতি বছর।

সাধারণ মানুষের এ বিক্ষোভ দমনে মাঠে নামেন মাহিন্দা রাজাপক্ষের সমর্থকেরা। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালালে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। এরপর বাধ্য হয়ে গত ৯ মে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়েন মাহিন্দা। এর আগে ও পরে মন্ত্রিসভা থেকে রাজাপক্ষের পরিবারের সদস্যরা পদত্যাগ করেন। এরপর প্রেসিডেন্ট গোতাবায়ার ওপর চাপ আরও বাড়ে এবং তিনি একা হয়ে পড়েন। ৯ জুলাই প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ছেড়ে যান তিনি। বিপুল জনসমর্থন (৫২ দশমিক ২৫ শতাংশ) নিয়ে ২০১৯ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার মাত্র দুই বছরের মাথায় গণবিক্ষোভের মুখে গত মঙ্গলবার রাতে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান গোতাবায়া।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন