৬ হাজার বন্দীকে মুক্তি দেবে মিয়ানমার সরকার
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে ৬ হাজার ১৩৪ জন বন্দীকে সাধারণ ক্ষমা করার ঘোষণা দিয়েছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার। রোববার এক বিবৃতিতে দেশটির ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি কাউন্সিল জানায়, মানবিক দিক বিবেচনা করে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের বিশেষ ক্ষমতাবলে এসব বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, মুক্তির অপেক্ষায় থাকা বন্দীদের মধ্যে বিভিন্ন কারাগার ও আটক কেন্দ্রে সাজা ভোগ করা নারী ও পুরুষ উভয়ই রয়েছেন। এ ছাড়া আলাদা এক ঘোষণায় জানানো হয়েছে, ৫২ জন বিদেশি বন্দীকে মুক্তি দিয়ে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।
ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মিয়ানমারের ৭৮তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও এই সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা দেওয়া হলো। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখলের পর থেকে জান্তা সরকার হাজার হাজার রাজনৈতিক কর্মী ও বিক্ষোভকারীকে কারারুদ্ধ করে রেখেছে।
এদিকে রোববার সকালে ইয়াঙ্গুনের ইনসিন কারাগারের সামনে স্বজনদের অপেক্ষায় শত শত মানুষকে ভিড় করতে দেখা যায়। হাতে বন্দী স্বজনদের নাম লেখা কাগজ নিয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন তাঁরা।
মিয়ানমারে বর্তমানে তিন দফায় জাতীয় নির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলছে। জান্তা সরকার এই নির্বাচনকে গণতন্ত্রের পথে ফেরার ধাপ হিসেবে দাবি করলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো একে ‘প্রহসন’ বলে আখ্যা দিয়েছে। এরই মধ্যে নির্বাচনের প্রথম ধাপের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সামরিক জান্তা সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) নিম্নকক্ষের ঘোষিত আসনগুলোর ৯০ শতাংশেই জয়লাভ করেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালে মিয়ানমার তাদের স্বাধীনতার ৭৮ বছর উদযাপন করছে। যদিও দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট ও গৃহযুদ্ধ এখনো চলছে।