default-image

৮ জুলাই সকালে জাপানের পশ্চিমাঞ্চলীয় নারা শহরে নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় এক ব্যক্তি হাতে বানানো অস্ত্র দিয়ে পেছন থেকে আবেকে গুলি করেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর হাসপাতালে আবের মৃত্যু হয়। জাপানে বন্দুক সহিংসতার ঘটনা তেমন একটা দেখা যায় না। সেখানে রাজনীতিকেরা সাধারণ মানুষদের সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক প্রচারণায় অংশ নেন। এ ক্ষেত্রে রাজনীতিকদের নিরাপত্তায় তেমন কড়াকড়ি থাকে না। ফলে আবের এ হত্যাকাণ্ডে স্তম্ভিত হয়েছে পুরো জাপান।

জাপানি প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা ও দেশটির কর্তৃপক্ষ শিনজো আবের নিরাপত্তা ত্রুটির বিষয়টি স্বীকার করেছে। পুলিশ বলছে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে তারা।

আটজন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ছাড়াও ছয়জন প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলেছে রয়টার্স। এ ছাড়া শিনজো আবে হত্যার ঘটনায় অনলাইন মাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক ভিডিও চিত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছে। এসব ভিডিও বিভিন্ন দিক থেকে ধারণ করা। এসবের মাধ্যমে গুলির আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থার সব বিষয় এক করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যখন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী তখন তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল গ্লোবাল থ্রেট সলিউশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কেনেথ বোমবাস বলছেন, ‘হামলাকারী প্রধানমন্ত্রীর পেছনের দিকে হাঁটছিলেন। তাঁদের (নিরাপত্তারক্ষীদের) এটা দেখে হামলাকারীকে আটকানো উচিত ছিল।’

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জাপানের সংবাদপত্র ইয়োমিউরি বলেছে, হামলাকারী তেতসুইয়া ইয়ামাগামি প্রথম গুলিটি করার আগে আবে যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন সেখান থেকে প্রায় ৭ মিটার বা ২৩ ফুট দূরত্বের মধ্যে এসেছিলেন। ওই গুলিটি লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ হয়। এরপর তিন মিটার দূরে থেকে আবের পিঠে দ্বিতীয় গুলিটি করেন।

সিআইএর সাবেক কর্মকর্তা জন সলটিস বলছেন, ‘ দেহরক্ষীরা আবের চারপাশে এককেন্দ্রিক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে রেখেছিল বলে মনে হয়নি। ’

টোকিওর নিহন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং সংকট ব্যবস্থাপনা ও সন্ত্রাসবাদ বিশেষজ্ঞ মিৎসুরু ফুকুদাও নিরাপত্তারক্ষীদের ভুল দেখেন। তিনি বলেন, আবেকে সময়মতো রক্ষা না করে ধাওয়া দিয়ে হামলাকারীকে ধরতে যাওয়া ছিল নিরাপত্তারক্ষীদের ভুল।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন