আরাগচি ও গালিবাফকে ‘হত্যার তালিকা’ থেকে বাদ দিল ইসরায়েল

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের আলোচনার ফাঁকে জাতিসংঘে নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনের একটি বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দিচ্ছেন, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালছবি: রয়টার্স

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফকে হত্যার তালিকা বা ‘হিট লিস্ট’ থেকে সরিয়ে নিয়েছে ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাকিস্তানের এক বিশেষ অনুরোধের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আলোচনার বিষয়ে অবগত পাকিস্তানের একটি সূত্র আজ বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।

সূত্রটি জানায়, ‘ইসরায়েলিদের কাছে তাঁদের অবস্থান জানা ছিল এবং তারা তাঁদের হত্যা করতে চেয়েছিল। আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে বলেছি, যদি তাঁদেরও সরিয়ে দেওয়া হয়, তবে কথা বলার মতো আর কেউ থাকবে না। এরপর যুক্তরাষ্ট্র তাঁদের হত্যা করা থেকে ইসরায়েলকে বিরত থাকতে বলে।’

এ বিষয়ে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সবার আগে খবরটি প্রকাশ করেছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা যাচাইয়ের লক্ষ্যে ইরানের এই দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে ইসরায়েলের হত্যার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, চার থেকে পাঁচ দিনের জন্য তাঁদের নাম তালিকা থেকে সরানো হয়েছে। তবে প্রতিবেদনটিতে পাকিস্তানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়নি।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ বন্ধ করতে পাকিস্তান, মিসর ও তুরস্ক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। গতকাল বুধবার পাকিস্তানের সামরিক কর্মকর্তারা জানান, তারা ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাব পৌঁছে দিয়েছে।

ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা রয়টার্সকে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফার প্রস্তাব পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। তবে তেহরান মনে করে, ওয়াশিংটনের দাবি খুব বেশি বাড়াবাড়ি। তা সত্ত্বেও তাঁরা ওয়াশিংটনের দাবি পর্যালোচনা করে দেখছেন।

ইরানের আরেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানান, ওয়াশিংটন নয়, তেহরানের শর্তে যুদ্ধ শেষ হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তারা পাঁচ দফার একটি পাল্টা প্রস্তাব দিয়েছে।

পাকিস্তানের দুজন কর্মকর্তা গতকাল বুধবার রয়টার্সকে জানান, তাঁরা ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

গতকাল ট্রাম্প আবার দাবি করেন, ইরান চুক্তির করার জন্য মরিয়া হয়ে আছে। অন্যদিকে আরাগচি জানিয়েছেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করার কোনো উদ্দেশ্য তাঁদের নেই।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ আগ্রাসনের প্রথম দিন দেশটির তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতা নিহত হন। পরে দেশটির নিরাপত্তাপ্রধান আলী লারিজানিসহ আরও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন।

আজ ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর প্রধান আলিরেজা তাংসিরিকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। তবে এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।