default-image

তাইওয়ান নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই সেখানে সফরে যাওয়ার ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। বিষয়টি চীনকে ব্যাপক ক্ষুব্ধ করে। বেইজিং খোলাখুলি ঘোষণা দিয়েছে, পেলোসি তাইওয়ান সফরে এলে তার ফলাফল হবে মারাত্মক। এর পরিণতি যুক্তরাষ্ট্রকে ভোগ করতে হবে।

পেলোসির ওই সফরের পরিকল্পনাকে ইঙ্গিত করে চীনের প্রসিডেন্ট বলেছেন, ‘যাঁরা আগুন নিয়ে খেলবেন, তাঁদের ওই আগুনেই পুড়তে হবে। আশা করি, যুক্তরাষ্ট্র সেটা পরিষ্কারভাবে উপলব্ধি করতে পারবে।’ চীন তাইওয়ানের স্বাধীনতা এবং সেখানে বিদেশি হস্তক্ষেপের ঘোর বিরোধী বলেও স্পষ্টভাবে বাইডেনকে স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

চীনের নীতির কড়া সমালোচক বলে পরিচিত পেলোসির তাইওয়ান সফর নানা কারণেই গুরুত্বপূর্ণ। এ সফর তাইওয়ানকে চীনের বিপরীতে একধরনের নৈতিক শক্তি তো বটেই, রাজনৈতিক সহযোগিতাও জোগাবে বলে মনে করা হয়। তাইওয়ান অনেক দিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, চীন তাদের সামরিক ও অর্থনৈতিক হুমকি দিচ্ছে।

উল্লেখ্য, তাইওয়ানকে চীন কখনোই পৃথক স্বাধীন ভূখণ্ড বলে স্বীকার করা তো দূরে থাক, মনেও করে না। অঞ্চলটিকে নিজেদের ভূখণ্ড দাবি করে চীন বলে আসছে, প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে তাইওয়ানকে কবজায় নেওয়া হবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দিলেও দেশটির সঙ্গে সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে।

default-image

ফোনালাপের পর হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে বলেছে, সিকে বাইডেন বলেছেন, তাইওয়ান প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি অপরিবর্তিত থাকবে। তাইওয়ান প্রণালিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা চীন অবজ্ঞা করায় এর বিরোধিতা করেন বাইডেন।

বেইজিং একাধিকবার তাইপে-ওয়াশিংটনের উষ্ণ সম্পর্কের বিষয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছে। সর্বশেষ গত সোমবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান সতর্ক করে বলেছেন, তাঁর দেশ প্রয়োজনে ‘দৃঢ় এবং স্থির পদক্ষেপ’ নেবে, যদি পেলোসি তাইওয়ান সফর করেন। এর জন্য কেবল ওয়াশিংটনই এককভাবে দায়ী থাকবে।

দুই নেতার ওই ফোনালাপে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও আলোচনা হয়। ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার বিষয়ে চীন এখনো নিন্দা জানায়নি। ওই আলোচনার আগে হোয়াইট হাউসের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের মুখপাত্র জন কিরবি বলেছেন, ইন্দো–প্রশান্ত অঞ্চলে চীনের আগ্রাসন, উগ্র আচরণের বিষয়টি আলোচনার সবার ওপরে থাকবে।

বাণিজ্য, ভূরাজনৈতিক বিরোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও আলোচনায় জোর দেন প্রভাবশালী দুই দেশের নেতা। কারণ, এ বিষয়গুলো নিয়ে দুই দেশের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা বাড়ছে। তবে এ আলোচনাকে বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতির মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর করার একটি দারুণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

default-image

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, অনেকেই মনে করে, এ সফর কোনো ভালো উদ্যোগ নয়। তবে হোয়াইট হাউস মনে করে, এ বিষয়ে চীনের যেকোনো মন্তব্য পরিষ্কারভাবে অপ্রয়োজনীয়।

অভিযোগ রয়েছে, শুধু তাইওয়ানই নয়, হংকংয়ে স্বাধীনতা হরণ, প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর ‘দমনমূলক’ নীতি গ্রহণ করেছে চীন। ইন্দো–প্রশান্ত অঞ্চলে চীনের প্রভাব মোকাবিলায় তৎপর যুক্তরাষ্ট্র। এ জন্য এ অঞ্চলে মিত্র খুঁজতে জোর তৎপরতাও চালাচ্ছে দেশটি।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন