আফগানিস্তানে সামরিক স্থাপনা ধ্বংসের দাবি পাকিস্তানের

পাকিস্তানের হামলায় বিধ্বস্ত হয়েছে একটি ভবন। পাশে দাঁড়িয়ে একজন তালেবান নিরাপত্তাকর্মী। রোববার আফগানিস্তানের কান্দাহার প্রদেশের দামান এলাকায়ছবি: এএফপি

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে তিন দিন ধরে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। সবশেষ গত শনিবার রাতে আফগানিস্তানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও ‘সন্ত্রাসীদের’ ঘাঁটিতে বিমান হামলার দাবি করেছে ইসলামাবাদ। এতে দুই দেশ আবারও পূর্ণমাত্রার সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পাকিস্তানের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন চ্যানেলের খবরে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের দক্ষিণে কান্দাহার প্রদেশে তালেবান ও নিরপরাধ পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসী’ কর্মকাণ্ড চালানো গোষ্ঠীর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। আরেকটি হামলা চালানো হয়েছে কান্দাহারের একটি সুড়ঙ্গে। সেটিও তালেবান ও সন্ত্রাসীরা ব্যবহার করে আসছিল।

আফগানিস্তানে অবস্থান করা বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা চালাচ্ছে বলে দাবি ইসলামাবাদের। তাদের প্রতি তালেবানের সমর্থনও রয়েছে বলে অভিযোগ করে আসছে পাকিস্তান সরকার। গতকাল পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আফগান সরকার যত দিন না পর্যন্ত পাকিস্তানের মূল নিরাপত্তা উদ্বেগগুলো সমাধান করবে, তত দিন তাদের অভিযান চলবে।

কান্দাহারের এক বাসিন্দা এএফপিকে বলেন, শনিবার রাতে শহরের আকাশে যুদ্ধবিমান উড়তে দেখেন তারা। এ সময় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ধোঁয়াও উড়তে দেখা যাচ্ছিল। ওই বাসিন্দা বলেন, ‘পবর্ত অঞ্চলের ওপর দিয়ে একাধিক সামরিক বিমান উড়ে যায়। ওই এলাকার একটি সামরিক স্থাপনা রয়েছে। এর পর পরই একটি বিস্ফোরণ হয়।’

আফগানিস্তানে তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ এএফপিকে বলেন, পাকিস্তানের হামলায় কান্দাহারের একটি মাদকাসক্ত নিরাময়কেন্দ্রে এবং খালি একটি কনটেইনারের ক্ষতি হয়েছে। পাকিস্তান সামরিক বাহিনী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর যেসব অবস্থানে হামলার কথা বলছে, সেখান থেকে আক্রান্ত এলাকা অনেক দূরে।

এর আগে শুক্রবার রাতে পাকিস্তানের তিনটি এলাকায় আফগানিস্তান ড্রোন হামলা চালিয়েছিল বলে দাবি করেছিল পাকিস্তান। দেশটির প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ওই হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতেও আফগানিস্তানের সামরিক–বেসামরিক বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনী।

পাকিস্তান ও আফগানিস্তান—দুই দেশ সবশেষ বড় সংঘাতে জড়িয়েছিল গত মাসে। সে সময় দুই পক্ষেই প্রায় ৯৯ জন নিহত হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে পাকিস্তানে ১৩ সেনা ও ১ জন বেসামরিক মানুষ ছিলেন। আর আফগানিস্তানের ১৩ সেনা ও ৭২ জন বেসামরিক ব্যক্তি ছিলেন।