ছয় দিন নিখোঁজ থাকার পর এভারেস্টে জীবিত উদ্ধার নেপালি শেরপা

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে পৌঁছানোর পর হেলিকপ্টার থেকে পর্বতারোহী দাওয়া শেরপাকে নামিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসাকর্মী ও উদ্ধারকারীরা। ৪ জুন ২০২৬ছবি: এএফপি

মাউন্ট এভারেস্টে ছয় দিন আগে নিখোঁজ হওয়া এক নেপালি শেরপাকে (গাইড) জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। যদিও ধরে নেওয়া হয়েছিল, তিনি মারা গেছেন। কিন্তু বেস ক্যাম্পের দিকে একা একা হামাগুড়ি দিয়ে নেমে আসার সময় তাঁকে উদ্ধার করা হয়।

নিখোঁজ এই শেরপার খোঁজে তল্লাশি অভিযানের দায়িত্বে থাকা ‘৮কে এক্সপেডিশনসের’ পেম্বা শেরপা জানান, আজ বৃহস্পতিবার সকালে খুম্বু আইসফলের কাছে বরফাবৃত ঢাল বেয়ে দাওয়া শেরপা নিচে নেমে আসছিলেন। এ সময় একটি পরিচ্ছন্নতাকর্মী দলের সদস্যরা ৫২ বছর বয়সী এ শেরপাকে দেখতে পান।

দাওয়াকে উদ্ধার করে নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনা হয় এবং খাবার ও পানি দেওয়া হয়। এরপর একটি উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারে করে তাঁকে রাজধানী কাঠমান্ডুর হ্যামস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে অপেক্ষা করছিলেন। যদিও দাওয়ার মৃত্যু হয়েছে ধরে নিয়ে তাঁরা তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আচার-অনুষ্ঠান শুরু করে দিয়েছিলেন।

দাওয়ার স্ত্রী দামু শেরপা বলেন, ‘আমরা প্রথমে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও আমাদের এক পরিচিত মানুষের ফোনের মাধ্যমে জানতে পারি, ও এখনো বেঁচে আছে...এবং ওকে নিচে নামিয়ে আনা হচ্ছে।’

গত শুক্রবার (২৯ মে) পর্বত থেকে নামার সময় দাওয়াকে শেষবার দেখা গিয়েছিল। তাঁর ক্লায়েন্ট (একজন পোলিশ পর্বতারোহী) বেস ক্যাম্পে পৌঁছাতে পারলেও দাওয়া পৌঁছাতে পারেননি।

উদ্ধারকারী দল গঠনে কিছুটা দেরি হয়ে যায়। পরে যখন উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার পাঠানো হয়, তখনো তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

দাওয়া শেরপার কিশোরী মেয়ে মেন্ডো লামু শেরপা জানায়, তারা এরই মধ্যে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার দ্বিতীয় দিনের আচার-অনুষ্ঠান পালন করছিলেন, যা সাধারণত কয়েক দিন ধরে চলে।

লামু বলে, ‘আমরা খবরটা শোনার পর নিশ্চিত হতে পারছিলাম না, ওই ব্যক্তি আসলেই আমাদের বাবা কি না। তাই পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমরা ছবি পাঠাতে বলি। ছবি দেখার পর আমরা নিশ্চিত হই। নিশ্চিত হওয়ার পর আমাদের আনন্দের সীমা ছিল না।’

যে দলের সদস্যরা দাওয়াকে খুঁজে পান, তাঁরা মূলত ‘সাগরমাতা পলিউশন কন্ট্রোল কমিটি’র সদস্য। দলটি প্রতি পর্বতারোহণ মৌসুমের শুরুতে পাহাড়ি পথে মই ও দড়ি বিছানোর কাজ করে এবং মৌসুম শেষে আরোহীরা চলে যাওয়ার পর সেসব সরঞ্জাম সরিয়ে নিয়ে এলাকাটি পরিষ্কার করে।

বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্টের ইতিহাসে অন্যতম ব্যস্ততম এই মৌসুমে গত মাসে এক হাজারের বেশি পর্বতারোহী ও শেরপা (গাইড) চূড়ায় আরোহণ করেছেন। এই মৌসুমে এখন পর্যন্ত অন্তত পাঁচজন পর্বতারোহীর মৃত্যু হয়েছে।