ইস্তাম্বুলে ইসরায়েলি কনস্যুলেটের সামনে ৩ বন্দুকধারীর সঙ্গে পুলিশের গোলাগুলি, একজন নিহত
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ইসরায়েলি কনস্যুলেটের সামনে তিন বন্দুকধারীকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করেছে পুলিশ। পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে এক হামলাকারী নিহত হয়েছেন এবং বাকি দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সিএনএন তুর্ক-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্দুকধারীরা কনস্যুলেট ভবনটির দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ তাঁদের থামার নির্দেশ দেয়। কিন্তু তাঁরা পুলিশের নির্দেশ না মেনে উল্টো গুলি চালালে দুই পক্ষে সংঘর্ষ শুরু হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বন্দুকধারীরা ভবনটির ভেতরে ঢুকে যে তলায় ইসরায়েলি কূটনৈতিক দপ্তর অবস্থিত, সেখানে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিলেন।
তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুস্তফা সিফতচি বলেন, ‘ইস্তাম্বুলের ইয়াপি ক্রেডি প্লাজা ব্লকের সামনে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সশস্ত্র সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়া তিন ব্যক্তিকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। এই সংঘর্ষে আমাদের দুজন বীর পুলিশ সদস্য সামান্য আহত হয়েছেন।’
হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তাঁরা ইজমিত শহর থেকে ভাড়া করা একটি গাড়িতে করে ইস্তাম্বুলে এসেছিলেন। তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন ধর্মকে ব্যবহার করে—এমন একটি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। এ ছাড়া দুই হামলাকারী আপন ভাই। তাঁদের মধ্যে একজনের মাদক গ্রহণের ইতিহাস রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি কোনো সংগঠনের নাম উল্লেখ না করলেও তুর্কি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আটক এক সন্দেহভাজন ব্যক্তির সঙ্গে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) যোগসূত্র রয়েছে।
ইজমিত, ইয়ালোভাসহ এর আশপাশের এলাকায় আইএসের অনেক সমর্থক রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। গত ডিসেম্বরে ইয়ালোভা শহরের একটি বাড়িতে অভিযানের সময় আইএসের সন্দেহভাজন সদস্যদের সঙ্গে ব্যাপক গোলাগুলি হয়। এতে তিন পুলিশ কর্মকর্তা ও ছয় সন্দেহভাজন নিহত হন। জঙ্গিগোষ্ঠীটির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গত বছর তুরস্কজুড়ে বেশ কিছু অভিযান চালিয়ে অনেককে গ্রেপ্তার করেছে কর্তৃপক্ষ।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর নিরাপত্তার কারণে তুরস্ক থেকে নিজেদের কূটনীতিকদের ফিরিয়ে নেয় ইসরায়েল। এর পর থেকেই ইস্তাম্বুলের এই কনস্যুলেট ভবনটি খালি পড়ে রয়েছে।