বৈঠকে পুলিশ মহাপরিদর্শক ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় হালকা সুরে বিক্রমাসিংহে কয়েকজন কূটনীতিকের কাছে জানতে চান, তাঁদের দেশে বিক্ষোভকারীরা অবৈধভাবে প্রেসিডেন্ট কার্যালয় দখল করে রাখতে পারেন কি না।

বিক্রমাসিংহে অনুরোধ করে বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের বিবৃতি দেওয়ার বিষয় এলে কোনো কিছু যাচাইয়ে তথ্যের জন্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কী বলা হচ্ছে, কেবল তা দেখেই যাতে বিবৃতি দেওয়া না হয়।

প্রেসিডেন্ট কূটনীতিকদের সেনাবাহিনীর অভিযানের বিষয়টি জানান। তিনি তাঁদের বলেন, আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে বিক্ষোভকারীরা এলাকাটি দখল করে রেখেছিলেন। তাঁরা অবৈধভাবে প্রেসিডেন্ট সচিবালয় অব্যাহতভাবে দখল করে রাখেন।
বিক্রমাসিংহে জানান, আগের দিন (বৃহস্পতিবার) সকাল ছয়টার মধ্যে বিক্ষোভস্থল ছেড়ে দিতে বিক্ষোভকারীদের বলা হয়। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা তা অস্বীকার করে বিকল্প সময়ের কথা জানান, যা কর্তৃপক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না।

বিবৃতি দেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে যাচাই করে নিতে কূটনীতিকদের প্রতি অনুরোধ জানান প্রেসিডেন্ট। তাঁর কথায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নির্ভর করে দেওয়া বিবৃতি বৈশ্বিকভাবে শ্রীলঙ্কার মর্যাদাহানি করতে পারে। বিশেষ করে যখন অর্থনৈতিক সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা শ্রীলঙ্কার প্রয়োজন।

অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটে জর্জরিত শ্রীলঙ্কায় আন্দোলন দমাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে রনিল বিক্রমাসিংহের নতুন সরকার। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাজধানী কলম্বোয় সরকারি দপ্তরগুলো থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে বিক্ষোভকারীদের হটিয়ে দেন।

অভিযানকালে আটক করা হয়েছে কমপক্ষে ৯ জনকে। এ সময় আহত হন সাংবাদিকসহ কয়েকজন। এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যেই শুক্রবার শপথ নিয়েছেন শ্রীলঙ্কার নতুন প্রধানমন্ত্রী দিনেশ গুনাবর্ধনে।

সম্প্রতি জনরোষের মুখে দেশ ছেড়ে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে পালিয়ে যান। এরপর পার্লামেন্টের ভোটাভুটিতে গত বুধবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন বিক্রমাসিংহে। পরদিন শপথ নিয়েই বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থানে যান রনিল।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন