রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য আনোয়ার ইব্রাহিম এ সপ্তাহে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন। জনমত জরিপে অভিজ্ঞ এই বিরোধী নেতাকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই লড়াইয়ে এগিয়ে রাখা হয়েছে।

শনিবারের সাধারণ নির্বাচনকে ১৯৫৭ সালে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটির স্বাধীনতার পর সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন বলা হচ্ছে। জনমত জরিপে ঝুলন্ত পার্লামেন্টের আভাস দেওয়া হয়েছে। সরকার গঠনে কোনো দল কিংবা জোট সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।

জনমত জরিপের পাশাপাশি বিশ্লেষকেরা বলছেন, আনোয়ার ইব্রাহিমের নেতৃত্বাধীন জোট বেশি আসনে জয় পেতে পারে। তবে সেটা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার জন্য যথেষ্ট হবে না। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে বিরোধী নেতার ভূমিকা পালন করে আসছেন আনোয়ার ইব্রাহিম।

তবে প্রধানমন্ত্রী সাবরি ইয়াকুব এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী মুহিউদ্দিন ইয়াসিনের নেতৃত্বাধীন প্রতিদ্বন্দ্বী জোটগুলো এক হলে সরকার গঠনে প্রয়োজনীয়সংখ্যক আসন পেতে পারে। এতে এই যাত্রায়ও আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে।

সাবরি ইয়াকুব এবং মুহিউদ্দিনের জোট ক্ষমতাসীন জোর সরকারেরই অংশ। কিন্তু নির্বাচনে তাঁরা আলাদাভাবে লড়ছে।

নির্বাচনে ভোটারদের কাছে অর্থনৈতিক বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে—প্রবৃদ্ধিতে ধীরগতি দেখা দিতে পারে, বাড়ছে মূল্যস্ফীতিও। অনেক মালয়েশীয়ই সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা নিয়ে হতাশ। তাঁরা মনে করছেন, এতে অর্থনৈতিক উন্নয়ন থেকে রাজনীতিকদের নজর সরে গেছে।

স্বাধীন জরিপ সংস্থা মেরদেকা সেন্টারের গতকাল শুক্রবার প্রকাশিত জরিপ অনুযায়ী, আনোয়ার ইব্রাহিমের পাকাতান হারাপান জোট ৩৩ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট পেতে পারে। মুহিউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন পেরিকাতান জোট ২০ দশমিক ৩ শতাংশ আর সাবরি ইয়াকুবের বারিসান ন্যাশনাল ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট পেতে পারেন।

মেরদেকা বলছে, পাকাতান হারাপান জোট ২২২টি আসনের মধ্যে ৮২টি আসন পেতে পারে। গত বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত চালানো জরিপ দেখা গেছে, তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ৪৫ আসনে কারা জয়ী হচ্ছে সে ভবিষ্যদ্বাণী করা যাচ্ছে না।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জনপ্রিয়তায় সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছেন আনোয়ার ইব্রাহিম। জরিপে অংশ নেওয়া ৩৩ শতাংশ ভোটার তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান।