আফগানিস্তানে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক সেনাসদস্য রবার্ট-স্মিথকে
অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ সামরিক সম্মাননা ‘ভিক্টোরিয়া ক্রস’ জয়ী সাবেক সেনাসদস্য বেন রবার্ট-স্মিথকে আপাতত কারাগারেই থাকতে হচ্ছে। একাধিক যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক এই সেনাসদস্য গত মঙ্গলবার গ্রেপ্তার হন। বুধবার সকালে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। তখন আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, রবার্ট-স্মিথ ২০০৬ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে বিভিন্ন মেয়াদে আফগান যুদ্ধে অংশ নেন। ২০০৯ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে সেখানে পাঁচ বেসামরিক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে পাঁচটি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রতিটি অভিযোগের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। তবে শুরু থেকে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রবার্ট-স্মিথ।
সিডনি বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার রাতে রবার্ট-স্মিথকে সিলভারওয়াটার সংশোধনাগার কমপ্লেক্সের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে রাখা হয়। বুধবার সকালে আদালতে জামিন আবেদনের শুনানি শুরু হলে তাঁর আইনজীবী জানান, তিনি এখনই জামিনের জন্য আবেদন করছেন না। তিনি বরং রবার্ট-স্মিথকে সিডনির ডাউনিং সেন্টার স্থানীয় আদালতে সশরীর হাজির করে শুনানির জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে আদালত তাৎক্ষণিকভাবে সেই অনুরোধ মঞ্জুর না করে আগামী ৪ জুন পরবর্তী প্রশাসনিক শুনানির দিন ধার্য করেন। ফলে জামিন না হওয়া পর্যন্ত রবার্ট-স্মিথকে কারাগারেই থাকতে হবে।
এদিকে সাবেক এই সেনাসদস্যের গ্রেপ্তার নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং সংবাদমাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রায় সব প্রধান টেলিভিশন চ্যানেল, সংবাদপত্র এবং অনলাইন সংবাদমাধ্যম এ খবরটিকে প্রধান শিরোনাম করেছে। কোনো কোনো সংবাদমাধ্যম এটাকে অস্ট্রেলিয়ার সামরিক ইতিহাসে একটি ‘কালো অধ্যায়’ বলে উল্লেখ করেছে।
অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় বিরোধীদলীয় নেতা অ্যাঙ্গাস টেইলর এ ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি মেলবোর্নে সাংবাদিকদের বলেন, অভিযুক্তদের আইনি লড়াইয়ের খরচ সরকারের বহন করা উচিত। রবার্ট-স্মিথ নির্দোষ হওয়ার সম্ভাবনার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ তদন্তপ্রক্রিয়া এবং এই বিচার সামরিক বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়ার কৌশলগত প্রচারক জাকি হায়দারি রয়টার্সকে বলেন, ‘অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষের প্রতিটি বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ খতিয়ে দেখা উচিত। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।’
টুইন টাওয়ারে হামলার পর ২০০১ সালের অক্টোবরে মিত্রদের নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রে। এতে অস্ট্রেলিয়াও সেনা পাঠায়। ২০ বছরের যুদ্ধে আফগানিস্তানে অস্ট্রেলিয়ার প্রায় ৪০ হাজার সেনাসদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ৪৭ জন। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ২০২১ সালের আগস্টে আফগানিস্তানে থেকে সব সেনা প্রত্যাহার করে নেয়।