জাপানে নবম টিকাড সম্মেলনের প্রাপ্তি ও সম্ভাবনা

উদ্বোধনী ভাষণ দিচ্ছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইশিবা শিগেরু। টোকিও, ২০ আগস্টছবি: জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া

জাপানের রাজধানী টোকিও লাগোয়া শহর ইয়োকোহামায় সম্প্রতি তিন দিন ধরে বসেছিল আফ্রিকা মহাদেশের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে জমজমাট এক আয়োজন। সংক্ষেপে টিকাড নামে পরিচিত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আফ্রিকা মহাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বাইরে বিপুল খনিজ সম্পদ ও জ্বালানি উৎস থাকা মহাদেশের প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে জাপানের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি জাপানের মতো অগ্রসর কিন্তু প্রাকৃতিক সম্পদের ঘাটতি থাকা দেশের উৎপাদনশীলতার গতি ধরে রাখতে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ কীভাবে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে, সেসব দিকে আলোকপাত করা হয়।

টিকাডের আয়োজন কেবল নেতাদের মধ্যে চলা পূর্ণাঙ্গ এবং পারস্পরিক আলোচনার মধ্যে সীমিত থাকেনি। জাপানের বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি অফ্রিকার ৪০টির বেশি দেশের অংশগ্রহণে একটি মেলায় রূপ নেয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে জাপানের নেতৃস্থানীয় কিছু শিল্পী ছাড়াও আফ্রিকার বেশ কিছু দেশ থেকে আসা সংগীতশিল্পী ও নৃত্যশিল্পীরা অংশ নেন। এবারের আয়োজনে জাতিসংঘও যুক্ত ছিল। ফলে ইয়োকোহামায় এবারে টিকাডের নবম সমাবেশ আসলেই হয়ে উঠেছিল জমজমাট এক আয়োজন।

গত শতাব্দীর শেষভাগে স্নায়ুযুদ্ধোত্তর বিশ্ববাস্তবতায় আফ্রিকায় উন্নত দেশগুলোর সহায়তা করার আগ্রহ হ্রাস পেতে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে সম্ভাবনাময় এই মহাদেশের ভবিষ্যতের বিষয় কেন্দ্রে রেখে ১৯৯৩ সালে টিকাড গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করে জাপান। আফ্রিকান মালিকানা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের মৌলিক নীতির ওপর ভিত্তি করেই এর প্রতিষ্ঠা। সূচনালগ্ন থেকেই মূলত অনুদান এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে আফ্রিকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতিতে এই ফোরাম ভূমিকা রেখে আসছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইশিবা শিগেরু ২০ আগস্ট তাঁর উদ্বোধনী ভাষণে নতুন বিশ্ববাস্তবতায় আফ্রিকা এবং জাপানের সামনে আসা চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় যৌথভাবে উদ্ভাবিত সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এবারের টিকাডেতে তিনটি প্রধান ক্ষেত্রের ওপর আলোকপাতের কথা বলেন তিনি। এগুলো হচ্ছে বেসরকারি খাতের নেতৃত্বাধীন টেকসই প্রবৃদ্ধি, যুব সম্প্রদায় ও নারী এবং আফ্রিকার অভ্যন্তরে ও বাইরে আঞ্চলিক একীকরণ ও সংযোগ।

তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পারস্পরিক উদ্যোগ গ্রহণের ওপর আলোকপাত করেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। সম্মেলন চলাকালে তিন দিন ধরে চলা নানামুখী আলোচনায় এই বিষয়গুলোই প্রাধান্য পেয়েছে।

নবম টিকাডের সার্বিক সাফল্য নিয়ে আলোচনা করতে হলে ইয়োকোহামা ঘোষণা এবং ঘোষণায় উল্লেখ থাকা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটের বাইরে আফ্রিকা মহাদেশকে সার্বিকভাবে এগিয়ে নিতে সাহায্য করায় বিভিন্ন দেশের জন্য করণীয় হিসেবে বিবেচিত নানাবিধ কর্মসূচি শীর্ষে রাখতে হবে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলো এবং স্বাগতিক দেশ জাপানের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে ইয়োকোহামা ঘোষণা অনুমোদন করার মধ্য দিয়ে ২২ আগস্ট শেষ হয় সম্মেলন।

অর্থনীতি, সমাজ ও শান্তি এবং স্থিতিশীলতা—এই তিন ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নিতে অংশগ্রহণকারীদের ঘোষিত অঙ্গীকার ছিল ইয়োকোহামা ঘোষণার প্রধান একটি দিক। এ ছাড়া আফ্রিকা মহাদেশজুড়ে বিরাজমান দারিদ্র্য এবং সাম্প্রতিক সময়ে দুর্বল হয়ে পড়া বহুপক্ষীয়তা সামাল দেওয়ার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তার ওপরও ঘোষণায় গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

অর্থনৈতিক দিকে ঘোষণায় বহুপক্ষীয় বাণিজ্য ব্যবস্থার গুরুত্ব আবার নিশ্চিত করা হয়েছে। বাণিজ্যিক বহুপক্ষীয়তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের আঘাত হেনে যাওয়ার এই সময়ে এটা হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনীতির দেশের স্বেচ্ছাচারী মনোভাবের কাছে নতি স্বীকার না করার দৃঢ় এক প্রত্যয়।

জাপান সরকার অবশ্য ঘোষণার বিশেষ এই দিকটির সঙ্গে সংগতি রাখার বাইরে আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে শিল্প খাত, সরকার এবং গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে আফ্রিকা মহাদেশের মুক্তবাণিজ্য খাতে সাহায্য করার জন্য একটি কমিটি গড়ে তোলার ঘোষণা সম্মেলনে প্রচার করেছে।

ঘোষণায় একই সঙ্গে খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা মোকাবিলা করার জন্য কৃষিব্যবস্থা শক্তিশালী করে তোলা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করে নেওয়ার তাৎপর্যের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। দ্বিতীয় অংশটি জাপানের অর্থনৈতিক স্বার্থ সংরক্ষণের পরোক্ষ একটি উপায় বলে মনে হলেও অন্য কোনো দেশের স্বার্থ কিংবা পদক্ষেপের সরাসরি বিরোধিতা এখানে করা হয়নি।

সামাজিক খাতে ইয়োকোহামা ঘোষণায় সংক্রামক রোগ ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা সমাধানে জাপান এবং আফ্রিকার দেশগুলোর সহযোগিতা জোরদার করে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অফ্রিকা মহাদেশের স্বাস্থ্যসেবাব্যবস্থার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারি উন্নয়ন সাহায্য হ্রাসের প্রবণতা উল্লেখ করে এর নেতিবাচক ফলাফল কী হতে পারে, তার ওপর আলোকপাত করা হয়। এখানেও যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের উন্নয়ন সাহায্য খাতে বরাদ্দ ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেওয়ার সরাসরি উল্লেখ না করা হলেও টিকাড নেতারা ঘোষণায় সে রকম একটি অনুচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত রাখার মধ্য দিয়ে দৃশ্যত সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন।

ইয়োকোহামা ঘোষণায় আরও বলা হয়েছে, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন আফ্রিকা মহাদেশের উন্নয়ন, শান্তি ও স্থিতিশীলতার ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় বিশেষ এই দিকটির অগ্রগতি নিশ্চিত করে নিতে আরও বেশি যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন।

এ ছাড়া বৈশ্বিক ক্ষেত্রে, বহুপক্ষীয়তা এবং আন্তর্জাতিক বৈধতার ওপর উচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপরও জোর দেওয়া হয়। পাশাপাশি ভেটোর প্রশ্নসহ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার একটি ব্যাপক, স্বচ্ছ এবং ভারসাম্যপূর্ণ পদ্ধতিতে সমাধান করা উচিত বলে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি পরিষদে পূর্ণ আফ্রিকান প্রতিনিধিত্বের জন্য সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

জাপান ও আফ্রিকার রাষ্ট্রগুলো শান্তি প্রতিষ্ঠার মতো ক্ষেত্রে জাতিসংঘে ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ এবং সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও এতে তুলে ধরা হয়। অন্যদিকে হিরোশিমা এবং নাগাসাকিতে আণবিক বোমা হামলার ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিপর্যয়কর মানবিক পরিণতির কথা স্বীকার করে পরমাণু অস্ত্রবিহীন একটি বিশ্ব বাস্তবায়নের জন্য নিজেদের প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করা হয় ইয়োকোহামা ঘোষণায়।

তিন দিনের টিকাড সম্মেলনের শেষ দিনে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইশিবা শিগেরুর দেওয়া সমাপনী ভাষণেও ইয়োকোহামা ঘোষণায় উল্লেখ থাকা গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দিকের পুনরুল্লেখ থাকার বাইরে আফ্রিকার সঙ্গে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে জাপানের গ্রহণ করতে যাওয়া কয়েকটি পদক্ষেপের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

ভারত মহাসাগর থেকে আফ্রিকা মহাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার ঘোষণা ইশিবা উদ্বোধনী অধিবেশনের বক্তব্যেই বিস্তারিতভাবে আলোকপাত করেছেন। সমাপনী অধিবেশনে আরও একবার সেই উদ্যোগ গ্রহণের উল্লেখ করার বাইরে আগামী তিন বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ (এআই) উচ্চ প্রযুক্তি খাতে আফ্রিকার ৩০ হাজার পেশাজীবীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার একটি ঘোষণা তিনি প্রচার করেন।

ফলে ধরে নেওয়া যায় আফ্রিকা মহাদেশের ৪৯টি দেশের সরকারপ্রধান ও নেতাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত নবম টিকাড ছিল সফল একটি আন্তর্জাতিক সমাবেশ। তিন বছর পর ২০২৮ সালে আফ্রিকা মহাদেশের কোনো একটি দেশে টিকাডের দশম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলে সম্মেলনের শেষে ঘোষণা করা হয়।

টিকাড শীর্ষ সমাবেশের আয়োজন সামনে রেখে জাপানের প্রবর্তিত হিদেও নোগুচি পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। আফ্রিকার অগ্রগতিতে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখা ব্যক্তিত্ব ও সংগঠনকে সাধারণত এই পুরস্কার দেওয়া করা হয়। নোগুচি হিদেইয়ো ১৯২৭ সালে ঘানা ভ্রমণ করেন। তিনি হলুদ জ্বরের ওপর গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন। তাঁকে আফ্রিকার চ্যালেঞ্জ সমাধানে কাজ করা জাপানিদের জন্য একজন রোল মডেল হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।

এ বছর যৌথভাবে হিদেও নোগুচি পুরস্কার পেয়েছেন মালির ৬১ বছর বয়সী চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষক আবদুল্লায়ে জিমদে এবং সুইজারল্যান্ডভিত্তিক সংগঠন ড্রাগস ফর নেগলেক্টেড ডিজিস ইনিশিয়েটিভ ডিএনডিআই। আফ্রিকা মহাদেশের সাব–সাহারা অঞ্চলে ম্যালেরিয়ার বিস্তার রোধে ওষুধ আবিষ্কারে অবদান রাখার পাশাপাশি তরুণ চিকিৎসা গবেষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান উৎসাহিত করতে অবদান রাখার জন্য জিমদেকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। অপর দিকে স্লিপিং সিকনেস নামে পরিচিত অবহেলিত রোগের নতুন চিকিৎসাপ্রক্রিয়া উদ্ভাবনের জন্য ডিএনডিআইকে এবারের পুরস্কারের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।

টিকাড সম্মেলনের শেষে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলের প্রধানেরা জাপানের সম্রাট ও সম্রাজ্ঞীর দেওয়া এক চা–চক্রে যোগ দেন। সেই আয়োজন শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে নেমে আসে ইয়োকোহামায় আয়োজিত নবম টিকাডের পর্দা।

শুরুতেই যেমন উল্লেখ করা হয়েছে, টিকাডের মূল আয়োজনের বাইরে বাণিজ্য মেলাটিও ছিল যথেষ্ট জমজমাট। আফ্রিকা মহাদেশের ৪১টি দেশের বুথ থাকার পাশাপাশি জাপানের নেতৃস্থানীয় বিভিন্ন কোম্পানি এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসহ জাপানি বুথের সংখ্যা ছিল শতাধিক।

জাপানের বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও অফ্রিকার ৪০টির বেশি দেশ টিকাড মেলায় অংশ নেয়। টোকিও, ২১ আগস্ট
ছবি: জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া

সবাই নিজস্ব রপ্তানি পণ্য ও ব্যবসার নানা রকম দিকের ওপর আলোকপাত করার বাইরে ব্যবসা ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ নিয়ে আফ্রিকার সহযোগী কোম্পানির সঙ্গে পারস্পরিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে নতুন সম্ভাবনা খুঁজে বের করার সন্ধানে ছিল।

জাপানের টয়োটা এবং সুজুকি মোটরের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। উভয় কোম্পানি আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে মোটরগাড়ি ছাড়াও ভারী যানবাহন রপ্তানি করে আসছে।

টয়োটা মোটরের সহযোগী সংগঠন টয়োটা কানেকটেড করপোরেশনের বুথে কথা হয় কোম্পানির একটি বিভাগের ম্যানেজার মাসাশি নোমোতোর সঙ্গে। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় আফ্রিকার সঙ্গে এশিয়া মহাদেশের বড় একটি অংশকে যুক্ত করে জাপান সরকারের গ্রহণ করতে যাওয়া নতুন উদ্যোগে এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলকে সম্পৃক্ত না করার সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে নোমোতো বলেন, তিনি মনে করছেন এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চল, বিশেষ করে আসিয়ানের কয়েকটি দেশে জাপানের উৎপাদন ঘাঁটিগুলো থেকে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে পণ্যের রপ্তানি বেশ কিছু সময় ধরে চলে আসায় জাপান সরকার হয়তো মনে করে থাকবে নতুন করে সেই অঞ্চলকে আরও একটি উদ্যোগে যুক্ত করা হয়তো সংগত হবে না। সম্ভবত এ কারণেই ভারত থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশকে এতে অন্তর্ভুক্ত করা। ভারতে যে টয়োটার বড় উৎপাদন ঘাঁটি ইতিমধ্যে রয়েছে, সেটার উল্লেখ করতেও তিনি ভুলে যাননি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একদিকে আফ্রিকার দেশগুলোতে চীনের শক্তিশালী উপস্থিতি এবং বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের বহুপক্ষীয়তাকে নিরুৎসাহিত করার নীতির আলোকে দেখা দেওয়া নতুন বিশ্ববাস্তবতায়, ব্যাপক খনিজ সম্পদের উপস্থিতির পাশাপাশি গড় বয়স ১৯ নিয়ে তারুণ্যের প্রাণশক্তিতে ভরপুর আফ্রিকার গুরুত্ব এখন ক্রমবর্ধমান। প্রধানমন্ত্রী ইশিবা শিগেরু যেমন বলেছেন, ‘আমরা এমন এক যুগে প্রবেশ করছি, যখন আফ্রিকা থেকে উদ্ভূত সমাধানগুলো জাপানসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রক্ষা করবে।’

একবিংশ শতাব্দীতে, আফ্রিকা এবং বিশ্বের মুখোমুখি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথভাবে উদ্ভাবনী সমাধান তৈরিতে জাপান এবং আফ্রিকার ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ তাই হয়ে ওঠে এবারের টিকাড এবং ইয়োকোহামা ঘোষণার মূল এবং যৌক্তিক প্রতিপাদ্য।