আয়ুশ বলেন, নেপালের তেরাই অঞ্চলের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে সুরক্ষিত জাতীয় উদ্যান বারদিয়ার খোলা সমভূমি এবং ঘন ঝোপে সশস্ত্র টহল দেন তিনি। তখন প্রায়ই বেঙ্গল টাইগার তাঁর সামনে পড়ে। তিনি বলেন, বাঘ সুরক্ষার দায়িত্বে নিযুক্ত হওয়া সম্মানের বিষয়।

নেপালের জিরো-পোচিং পদ্ধতি বাঘ রক্ষায় কাজে এসেছে। দেশটির সামরিক বাহিনীও জাতীয় উদ্যানে বাঘ রক্ষায় কাজ করা দলগুলোকে সহায়তা করে। পার্কের পাশের অভয়ারণ্যে কমিউনিটি অ্যান্টি-পোচিং ইউনিটগুলো প্রাকৃতিক প্রবেশদ্বারগুলো পর্যবেক্ষণ করে, যার কারণে বাঘ নিরাপদে ঘোরাফেরা করতে পারে।

উদ্যানের এমন একটি অংশ খাতা করিডর নামে পরিচিত। এটি বারদিয়া জাতীয় উদ্যানকে ভারতের সীমান্তের কাতারনিয়াঘাট বন্য প্রাণী অভয়ারণ্যের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে।

কিন্তু ওই এলাকা দিয়ে বাঘের প্রত্যাবর্তন উদ্যানের সীমান্তবর্তী এলাকায় বাস করা মানুষের জন্য ঝুঁকি তৈরি করেছে।

মনোজ গুতাম নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, এই এলাকার মানুষজন ঝুঁকিতে থাকেন। শিকারি বাঘ ও মানুষ একই এলাকা দিয়ে চলাফেরা করে। এলাকাটিও বেশ সংকীর্ণ। নেপালে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করতে ওই এলাকার মানুষ মূল্য দিয়েছে।

গত ১২ মাসে নেপালে বাঘের আক্রমণে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগের পাঁচ বছরে সব মিলিয়ে এ সংখ্যা ছিল ১০।

গ্রামবাসী গবাদিপশু চরাতে বা ফল, মাশরুম এবং কাঠ সংগ্রহ করতে জাতীয় উদ্যান বা অভয়ারণ্যে অবস্থান করার সময় বেশির ভাগ হামলার শিকার হয়েছেন। অনেক সময় দেখা গেছে, বাঘ উদ্যান থেকে বেরিয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে হামলা চালিয়েছে। এসব গ্রামে বন্য প্রাণী প্রবেশে বাধার জন্য বেড়া দেওয়া থাকলেও শিকারি পশু সহজেই বেড়া পেরিয়ে যেতে পারে।

ভাদাই থারু নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা ২০০৪ সালে বাঘের হামলার শিকার হয়েছিলেন। ওই মুহূর্তকে তিনি যুদ্ধের চেয়েও ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেন। অভিনয় করতে করতে তিনি বলেন, ‘বাঘটি বিশাল গর্জন করে আমার মুখের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এটি আমাকে রীতিমতো ছুড়ে ফেলে দেয়। এরপর বাঘটি লাফানো বলের মতো পেছন দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ল। আমি আমার সমস্ত শক্তি দিয়ে ঘুষি মারলাম এবং সাহায্যের জন্য চিৎকার করে কেঁদে উঠলাম।’ বাঘের ওই হামলায় নিজের একটি চোখ খোয়াতে হয়েছে বলে জানান ভাদাই থারু।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন