জন্মহার বাড়াতে নারী আমদানির প্রস্তাব, দক্ষিণ কোরিয়ার নেতা বহিষ্কার
জন্মহার বাড়াতে বিদেশ থেকে তরুণী আমদানির বিতর্কিত মন্তব্য করে নিজ দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার এক শীর্ষস্থানীয় নেতা। দেশটির দক্ষিণ জিনদো কাউন্টির প্রধান কিম হি-সু গত সপ্তাহে এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, দেশটিতে জন্মহারের বিপর্যয় কাটাতে ভিয়েতনাম বা শ্রীলঙ্কা থেকে তরুণীদের নিয়ে এসে গ্রামীণ অঞ্চলের অবিবাহিত যুবকদের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া যেতে পারে।
কিম হি-সু এমন মন্তব্যের পর দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টি গতকাল সোমবার সর্বসম্মতভাবে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।
গত সপ্তাহে এক টাউনহল সভায় কিম হি-সু জন্মহার বাড়াতে নারী আমদানির প্রস্তাব দেন। সে সময় তিনি বলেন, গ্রামীণ এলাকার জনসংখ্যা বৃদ্ধি করতে ভিয়েতনাম বা শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলো থেকে তরুণীদের নিয়ে আসা জরুরি। তাঁর এ বক্তব্য টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হওয়ার পরপরই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। মানবাধিকার কর্মী ও সাধারণ নাগরিকেরা বিষয়টিকে ‘নারী অবমাননা’ ও ‘মানব পাচারের মানসিকতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
কিমের এ বক্তব্যে কেবল দক্ষিণ কোরিয়ার অভ্যন্তরেই নয়, আন্তর্জাতিক মহলেও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সিউলে অবস্থিত ভিয়েতনাম দূতাবাস এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এক বিবৃতিতে বলেছে, এটি কেবল একটি সাধারণ বক্তব্য নয়, বরং অভিবাসী নারী ও সংখ্যালঘুদের প্রতি চরম অসম্মানজনক দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ। তবে শ্রীলঙ্কা সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ব্যাপক জনরোষের মুখে কিম হি-সু পরদিনই তাঁর বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, গ্রামীণ অঞ্চলের জনসংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বোঝাতে গিয়ে তিনি ‘অনুপযুক্ত’ ভাষা ব্যবহার করে ফেলেছেন। দক্ষিণ জিওল্লা প্রদেশ কর্তৃপক্ষও এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়ে বলেছে, কিমের এই কাণ্ডজ্ঞানহীন মন্তব্য ভিয়েতনামী জনগণ ও নারীদের মনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে।
বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বের সবচেয়ে কম জন্মহারের দেশ হিসেবে পরিচিত। দেশটির বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় পাঁচ কোটি। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, বর্তমান পরিস্থিতি বজায় থাকলে আগামী ৬০ বছরের মধ্যে দেশটির জনসংখ্যা অর্ধেকে নেমে আসতে পারে। এই সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন প্রশাসনিক এলাকা একীভূত করার পরিকল্পনাও চলছে।
এদিকে কিম হি-সুর এই বর্ণবাদী ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্যের প্রতিবাদে মঙ্গলবার জিনদো কাউন্টি অফিসের সামনে বড় ধরনের বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে অভিবাসী ও নারী অধিকার সংগঠনগুলো।