এদিকে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনায় যোগ দিচ্ছে না প্রধান বিরোধী দল সমাগি জনা বালাবেগায়া (এসজেবি)। তবে দলটির কয়েকজন পার্লামেন্ট সদস্য (এমপি) আলাদাভাবে সরকারে যোগ দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন।

নতুন সরকারে শরিক হওয়ার দিকে ঝুঁকেছে ন্যাশনাল ফ্রিডম ফ্রন্টও (এনএফএফ)। ইতিমধ্যে রনিলকে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দলটির প্রধান বিমল বিরাবানসা। তিনি বলেন, ‘আজ দেশের সামনে দুটি পথ খোলা আছে। হয় হাইতির মতো দেশকে একটি নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাওয়া, অথবা শেষ মুহূর্তে ঐকমত্যের মাধ্যমে চলমান বিশৃঙ্খল অবস্থা এড়ানো।’

শ্রীলঙ্কায় চরম আর্থিক সংকটের জেরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখে সম্প্রতি মালদ্বীপ হয়ে সিঙ্গাপুরে পালান প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে। এরপর তাঁর পদত্যাগের ঘোষণা আসে। ২০ জুলাই পার্লামেন্টে এমপিদের ভোটে বিজয়ী হন রনিল। তাঁর পক্ষে বেশির ভাগ ভোটই দিয়েছিলেন গোতাবায়ার দল শ্রীলঙ্কা পদুজানা পেরামুনার (এসএলপিপি) এমপিরা। পরে দলটির নেতা দিনেশ গুনাবর্ধনেকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেন রনিল।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দলের নেতা দুলাস আলাহাপ্পেরুমাকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী করেছিল ন্যাশনাল ফ্রিডম ফ্রন্ট। এখন রনিলকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে দলটির প্রধান বিরাবানসা বলছেন, সংকট সামাল দিতে প্রেসিডেন্ট রনিল সঠিক পথে এগোচ্ছেন বলে তিনি মনে করেন। অতীতের রাজনৈতিক মতভেদ বা শত্রুতা-নির্বিশেষে রনিলকে সমর্থন দিতে তাঁর দল প্রস্তুত।

বিগত কয়েক মাস ধরে অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে জর্জরিত শ্রীলঙ্কা। বিদেশি ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে শ্রীলঙ্কাকে দেউলিয়া ঘোষণা করে সরকার। দেশের বর্তমান সংকট সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা আগেই জানিয়েছেন রনিল। একই সঙ্গে দেশে জ্বালানি তেলের ঘাটতি পূরণের ওপর জোর দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

ঐকমত্যের সরকার গড়তে সব দলকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শ্রীলঙ্কার বিচারবিষয়ক মন্ত্রী বিজয়দাসা রাজাপক্ষেও। গত বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, জোট সরকারে বিরোধী দলগুলো যোগ দেয় কি না, তা দেখার জন্য কিছুটা সময় অপেক্ষা করা হবে। এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে দেশে যে সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকট চলছে, তা সমাধান করতে চাইছে সরকার। পাশাপাশি গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনারও চেষ্টা চলছে।

বিজয়দাসা রাজাপক্ষে বলেন, সংঘাতময় একটি পার্লামেন্টের বদলে তাঁরা একটি শান্তিপূর্ণ পার্লামেন্ট গঠনের প্রত্যাশা করছেন। এমনটি হলে জনগণের সমস্যা সমাধানের ইস্যুগুলোতে পার্লামেন্টে বিভক্তি দেখা যাবে না।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন