ভিসা দেওয়া বাড়িয়েছে জাপান, তবে বাড়ছে ফি, নিয়মের কড়াকড়ি

জাপানের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে কিয়োটো শহরে ঘুরছেন বিদেশি পর্যটকেরাফাইল ছবি: রয়টার্স

করোনা মহামারির সময় জাপানের পর্যটন খাত বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছিল। কার্যত পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছিল দেশটি। সে সময় জাপানের ভিসা দেওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছিল। এ পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে। ভিসা দেওয়ার পরিমাণ বাড়িয়েছে জাপান। এর ফলে জাপানে বিদেশিদের আসার পরিমাণ বেড়েছে।

জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল মঙ্গলবার একটি পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, ২০২৫ সালে ভিসা দেওয়ার পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৯ শতাংশ বাড়িয়েছে জাপান।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে জাপানের দূতাবাস, কনস্যুলেট ও কনস্যুলার কার্যালয়গুলো মোট ৭৮ লাখ ৬২ হাজার ৬০টি ভিসা ইস্যু করেছে। ২০২৪ সালের তুলনায় তা প্রায় ৯ শতাংশ বেশি।

করোনা মহামারির আগের বছর, অর্থাৎ ২০১৯ সালে জাপানের ভিসা দেওয়া সংখ্যা সর্বোচ্চে পৌঁছেছিল। সংখ্যাটি ছিল ৮২ লাখ ৭৭ হাজার ৩৪০। তবে মহামারির বিধিনিষেধের কারণে ২০২১ সালে তা মাত্র ৯০ হাজার ৩০৬-তে নেমে এসেছিল।

মহামারির পর থেকে ভিসা দেওয়ার সংখ্যা ক্রমেই বাড়িয়ে চলছে জাপান। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ২০১৯ সালের পর সর্বোচ্চে পৌঁছেছে।

২০২৫ সালে জাপানের ভিসা সবচেয়ে বেশি পেয়েছেন চীন, ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামের নাগরিকেরা। মোট ইস্যুকৃত ভিসার ৮৪ শতাংশই পেয়েছেন তাঁরা। এর মধ্যে আবার চীনারা এককভাবে পেয়েছেন ৭৩ শতাংশ।

ভিসা পাওয়ার দিক থেকে জাপানের দুই প্রতিবেশী দেশ দক্ষিণ কোরিয়া ও রাশিয়ার নাগরিকদের অবস্থানও ওপরের দিকে। এর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থান দশম। আর ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে জাপানের মতবিরোধ আছে। মতবিরোধ থাকা সত্ত্বেও ১ লাখ ৭০ হাজার রুশ নাগরিককে ভিসা দিয়েছে জাপান।

ভারত চতুর্থ স্থানে রয়েছে। ২ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি ভারতীয় ভিসা পেয়েছেন। নেপালের অবস্থান সপ্তম।

ভিসা পাওয়ার দিক থেকে প্রথম দশটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ নেই।

বাড়ছে ভিসা ফি

জাপানের ভিসা পেতে বাড়তি ব্যয় করতে হবে ভিসাপ্রত্যাশীদের। গত শুক্রবার জাপানের মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১৯৭৮ সালের পর, অর্থাৎ ৪৮ বছরের মধ্যে এই প্রথম এমন পদক্ষেপ নিল জাপান।

শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোতেগি তোশিমিৎসু বলেন, মুদ্রাস্ফীতি ও বিনিময় হারের ওঠানামার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই পরিবর্তন করা হলো।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একবার প্রবেশযোগ্য ভিসার ফি ৩ হাজার ইয়েন থেকে বাড়িয়ে ১৫ হাজার ইয়েন করা হয়েছে। আর একাধিকবার প্রবেশযোগ্য ভিসার ফি ৬ হাজার ইয়েন থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার ইয়েন করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত আগামী মাস থেকে কার্যকর হবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একবার প্রবেশযোগ্য ভিসার ফি ৩ হাজার ইয়েন থেকে বাড়িয়ে ১৫ হাজার ইয়েন করা হয়েছে। আর একাধিকবার প্রবেশযোগ্য ভিসার ফি ৬ হাজার ইয়েন থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার ইয়েন করা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত আগামী মাস থেকে কার্যকর হবে।

পাশাপাশি বহির্গমন করও বেড়েছে তিন গুণ। ১ হাজার ইয়েন থেকে বাড়িয়ে তা ৩ হাজার ইয়েন করা হয়েছে। এই খরচ জাপানি ও বিদেশি উভয়ের জন্য প্রযোজ্য হবে। তবে জাপানিদের জন্য এ–সংক্রান্ত ব্যয়ের চাপ কমিয়ে আনতে পাসপোর্টের ফি কমানোর কথা ভাবছে সরকার।

স্থায়ী বসবাসের আবেদনে খরচ বাড়ছে

গত মাসে জাপানের সংসদের উচ্চকক্ষে বিদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসাসংক্রান্ত ফি বর্তমান হারের চেয়ে সর্বোচ্চ ৩০ গুণ বাড়াতে একটি বিল পাস হয়। এর ভিত্তিতে জাপানে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনের ফি ১০ হাজার ইয়েন থেকে বেড়ে ২ লাখ ইয়েন হতে যাচ্ছে।

জাপান সরকারের যুক্তি হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য পশ্চিমা দেশে ভিসা ফি তুলনামূলক অনেক বেশি। কাজেই এ ক্ষেত্রে সমন্বয়ের বিকল্প নেই।

নিয়মের কড়াকড়ি

ভিসাসংক্রান্ত নিয়মকানুনের ব্যাপারে সম্প্রতি কড়া অবস্থান নিয়েছে জাপান। জাপানের বিদেশি নাগরিকসংক্রান্ত নীতি তদারককারী মন্ত্রী কিমি ওনোদা দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনভঙ্গকারী বিদেশিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে দেশটি।

এর ধারাবাহিকতায় মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসাধারী বা ভিসার শর্ত ভঙ্গকারী বিদেশিদের বিরুদ্ধে জোরালো অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিদেশিদের জাপানের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক নিয়মের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

ভিসার অপব্যবহারের অভিযোগ বিবেচনায় নিয়ে গত বছরের অক্টোবর থেকে ‘বিজনেস ম্যানেজার’ ভিসার ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম চালু করেছে জাপান। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের ৩ কোটি ইয়েন মূলধন থাকার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। আগে তা ৫০ লাখ ইয়েন ছিল।