নিবন্ধে সম্প্রতি উদ্বোধন করা পদ্মা সেতুর প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, পদ্মা সেতুকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ‘গর্ব ও সক্ষমতার প্রতীক’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

সাহিবজাদা রিয়াজ নূর নিবন্ধে লিখেছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী রাজনীতির সঙ্গে অর্থনৈতিক নীতির ভারসাম্য রক্ষার দিকে মনোনিবেশ করেন। তিনি বাজারভিত্তিক পুঁজিবাদী প্রবৃদ্ধির পথে হাঁটেন। অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাওয়া এশিয়ার অন্য দেশগুলো থেকে তিনি শিক্ষা নিয়েছেন। এসব দেশের অর্থনৈতিক সাফল্য এসেছে চারটি স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে। এগুলো হচ্ছে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সামাজিক উন্নয়ন, রপ্তানিনির্ভর প্রবৃদ্ধিভিত্তিক বাণিজ্য উদারীকরণ ও অর্থনৈতিক সংযম।

নিবন্ধে বাংলাদেশের বাণিজ্য উদারীকরণের প্রশংসা করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টির কথা বলা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে একটি সম্মেলনে শেখ হাসিনার বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। ওই সম্মেলনে একজন অর্থনীতিবিদ শেখ হাসিনাকে বাণিজ্য উদারীকরণের সুবিধা সম্পর্কে বলতে শুরু করেন। তখন তিনি তাঁকে বলেন, ‘বাণিজ্য উদারীকরণের বিষয়ে আপনার আমাকে বোঝাতে হবে না। যখন আমি যুগোস্লাভিয়ার সীমান্তবর্তী ইতালীয় শহর ত্রিয়েস্তে ছিলাম তখন দেখেছি সীমান্ত সপ্তাহে তিনবার খোলা হচ্ছে এবং দুই পাশ থেকে লোকজন যাতায়াত করছে, পণ্য কিনছে এবং ফিরে আসছে।’ এটা প্রমাণ করে, রাজনীতিবিদেরা অন্য যেসব বিষয়ে আকৃষ্ট, সেগুলোর থেকে অর্থনীতিতে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা।

নিবন্ধে আর্থসামাজিক নানা খাতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের অবস্থানের পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ১৯৭০ সালে পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশ ৭৫ শতাংশ দরিদ্র ছিল। কিন্তু এখন পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশ ৪৫ শতাংশ ধনী। ১৯৭০ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা পাকিস্তানের চেয়ে এক কোটি বেশি ছিল। কিন্তু এখন পাকিস্তানের জনসংখ্যা ২৩ কোটি আর বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৭ কোটি। ২০২১ সালে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ছিল ৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আর পাকিস্তানের রপ্তানি আয় ছিল ২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ২ হাজার ২২৭ মার্কিন ডলার আর পাকিস্তানের ১ হাজার ৫৪৩ মার্কিন ডলার। এ বছর বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) হচ্ছে ৪১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আর পাকিস্তানের ৩৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশের বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৬ শতাংশ আর পাকিস্তানের ১২ থেকে ১৫ শতাংশ, যা বেড়ে এখন ২১ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। পাকিস্তানের রুপির তুলনায় বাংলাদেশের টাকা এখন অনেক বেশি শক্তিশালী। আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হচ্ছে, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ উল্লেখ করার মতো। তাছাড়া উচ্চ সাক্ষরতার হারও রয়েছে।

পাকিস্তান প্রসঙ্গে সাহিবজাদা রিয়াজ নূর নিবন্ধে লিখেছেন, পাকিস্তানে রাজনৈতিক দলগুলো ব্যক্তিগত লাভের বিষয়ে আগ্রহী। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বারবার বাধা পরিবারকেন্দ্রিকতার বাইরে শক্তিশালী ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের বিকাশ ব্যাহত করেছে। অথচ এটা স্বীকৃত যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, আইনের শাসন, শক্তিশালী নাগরিক প্রতিষ্ঠান এবং অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ১৯৫৮ সাল থেকে সরকারের সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা জনগণের ক্ষমতায়নের পরিবর্তে সামন্তশক্তিকে ক্ষমতায়ন করেছে। পাকিস্তানে যে উন্নয়নের পথ অনুসরণ করা হয়েছে, তা সুবিধাভোগী, ধনী ও অভিজাতদের পক্ষে গেছে।

সাহিবজাদা রিয়াজ নূর লিখেছেন, বাংলাদেশকে অনুসরণ করে পাকিস্তানের নেতৃত্বকে জাতীয় অ্যাজেন্ডা হিসেবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বিষয়ে জোর দিতে হবে এবং আঞ্চলিক শান্তির পক্ষে থাকার পাশাপাশি সাংবিধানিক পথে চলতে হবে। কার্যকর প্রতিরক্ষার সঙ্গে আপস না করে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত সম্পদ বরাদ্দ করতে হবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য আঞ্চলিক সুবিধাকে কাজে লাগাতে হবে। এ ক্ষেত্রে বাণিজ্য উদারীকরণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় ভারত, ইরান, চীন, আফগানিস্তান এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে বৈদেশিক বাণিজ্য চুক্তি করতে হবে। এ ছাড়া রপ্তানিনির্ভর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য পণ্যের বৈচিত্র্যের দিকে নজর দিতে হবে।

নিবন্ধের উপসংহারে সাহিবজাদা রিয়াজ নূর বলেছেন, বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা থেকে অনেক কিছুই পাকিস্তানের নেতৃত্ব শিখতে পারেন। তবে তাদের কাছে সবার আগে গ্রহণীয় হওয়া উচিত শেখ হাসিনার অগ্রাধিকারভিত্তিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বিষয়টি। এটাই এখন প্রতিরক্ষা ও গণতন্ত্র উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন