ফিরে দেখা
জাপানের হামলার সময় যুক্তরাষ্ট্র কি ইচ্ছা করেই পার্ল হারবার অরক্ষিত রেখেছিল
জাপান ১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে মার্কিন নৌঘাঁটি পার্ল হারবারে হামলা চালায়। অতর্কিত আক্রমণে নৌঘাঁটির সদস্যরা বিহ্বল হয়ে পড়েছিলেন। পাল্টা আক্রমণ করা দূরের কথা, আক্রমণ প্রতিহত করাই তাঁদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে। এ হামলা ঠেকাতে আসলে যুক্তরাষ্ট্র অপ্রস্তুত ছিল, নাকি এর পেছনে অন্য হিসাব–নিকাশ ছিল, জেনে নেওয়া যাক হামলার বর্ষপূর্তিতে।
১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর। দিনটি ছিল রোববার। সকাল ৭টা ৫৫ মিনিট। সবাই ছুটির মেজাজে। কেউ কেউ তখন ধর্মীয় প্রার্থনায় যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এর মধ্যেই একের পর এক বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল ওয়াহু দ্বীপের পার্ল হারবার। উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের এই পার্ল হারবারে ছিল ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় নৌঘাঁটি।
পার্ল হারবারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের যুদ্ধজাহাজের সারি লক্ষ্য করে যুদ্ধবিমান থেকে একের পর টর্পেডো ছোড়া হচ্ছিল জাপানি যুদ্ধবিমান থেকে। সেই সঙ্গে চলে প্রচণ্ড বোমা হামলা ও মেশিনগান থেকে গুলিবর্ষণ। হামলা চালানো হয় সেখানকার বিমানঘাঁটিতেও।
দুই ধাপে এ হামলায় অংশ নেয় জাপানের ৩৫৩টি যুদ্ধবিমান। দুই ঘণ্টার মধ্যেই পাঁচটি যুদ্ধজাহাজ ডুবে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় আরও ১৬টি। ধ্বংস হয়ে যায় মার্কিন বাহিনীর ১৮৮টি যুদ্ধবিমান। জাপানের এই হামলায় নিহত হন ২ হাজার ৪০০ জন সামরিক ও বেসামরিক নাগরিক। আহত ব্যক্তির সংখ্যা ছিল প্রায় ১ হাজার ২০০।
অতর্কিত আক্রমণে নৌঘাঁটির সদস্যরা হতবিহ্বল হয়ে পড়েছিলেন। পাল্টা আক্রমণ করা দূরের কথা, আক্রমণ প্রতিহত করাই তাঁদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছিল। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই মার্কিন বাহিনী আক্রমণ প্রতিহত করার চেষ্টা করে। সকাল ১০টার মধ্যে জাপানি বাহিনী আক্রমণ শেষ করে জাহাজে ফিরে যাওয়ার আগেই মার্কিন বাহিনী তাদের ২৯টি বিমান ও পাঁচটি ছোট ডুবোজাহাজ ধ্বংস করতে সক্ষম হয়। মার্কিন পাল্টা হামলায় নিহত হন ৬৪ জাপানি সেনা।
আসলেই কি সেদিন যুক্তরাষ্ট্র হামলা ঠেকাতে এতটাই অপ্রস্তুত ছিল? নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কিছু। এ নিয়ে রয়েছে ইতিহাসবিদদের নানা মত ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব। যেমন, হামলার সময় যুক্তরাষ্ট্রের তিন বিমানবাহী রণতরির একটিও সেদিন পার্ল হারবারে ছিল না। সেগুলো অন্যত্র মোতায়েন ছিল। সাধারণত এই রণতরিগুলো পার্ল হারবারে থাকত। পরবর্তী সময়ে জাপানি বাহিনীকে এসব রণতরি দিয়েই কাবু করেছিল মার্কিন বাহিনী।
এ ছাড়া পার্ল হারবারে হামলায় জাপানের প্রস্তুতির বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনকে আগেই সতর্ক করেছিল জাপানস্থ দেশটির দূতাবাস। ছিল গোয়েন্দাদের সতর্কবার্তাও। কেন মার্কিন প্রশাসন তা উপেক্ষা করেছিল। তাহলে এর পেছনে কি ছিল অন্য কোনো হিসাব–নিকাশ।
উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের পার্ল হারবারে ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় নৌঘাঁটি। ঘাঁটিটি বানানো হয় ১৯০৮ সালে। এরপর ১৯৪০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান নৌঘাঁটি ক্যালিফোর্নিয়া থেকে হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের পার্ল হারবারে স্থানান্তর করা হয়। কৌশলগত দিক দিয়ে এই ঘাঁটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক এলাকা। যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় দুই হাজার মাইল ও জাপান থেকে প্রায় চার হাজার মাইলে দূরে অবস্থিত ছিল এই নৌঘাঁটি।
ক্ষেত্র প্রস্তুত হচ্ছিল অনেক দিন ধরেই
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগেই জাপান আগ্রাসী হয়ে উঠেছিল। চীনের সঙ্গে পরপর দুটি যুদ্ধজয়ের পর রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধজয়ে জাপান আরও বেশি আগ্রাসী হয়ে ওঠে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ–পরবর্তী অর্থনৈতিক মন্দা থেকে বাঁচতে জাপান আধিপত্যবাদী নীতি নেয়। এরই অংশ হিসেবে ১৯৩১ সালে চীনের মাঞ্চুরিয়া আক্রমণের মধ্য দিয়ে জাপান তাদের আধিপত্য বিস্তার শুরু করে।
জাপানের এই আক্রমণাত্মক মনোভাব যুক্তরাষ্ট্র ভালোভাবে নেয়নি। ১৯৪১ সালের জুলাই মাসে ফরাসি ইন্দোচীন দখল করার সময় জাপান জানত যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পূর্ণ মাত্রার আক্রমণ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাঁদের যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটাতে পারে।
আগ্রাসী আচরণের বিষয়ে জাপানকে সতর্ক করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এতে ফল না আসায় ১৯৪০ সালে যুক্তরাষ্ট্র জাপানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেয়। লৌহ আকরিক, স্ক্র্যাপ লোহা ও ইস্পাত রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হয়। আশা ছিল, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা চীন ও ইন্দোচীনে জাপানের সাম্রাজ্যবাদী অগ্রযাত্রা থামাতে পারে। তবে এতে কোনো কাজ হয়নি।
১৯৪১ সালের জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র জাপানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করে দেয় এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকা জাপানের সব সম্পদ জব্দ করে। গ্রেট ব্রিটেন, চীন ও নেদারল্যান্ডস জাপানে তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেয়।
বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ব্যাপারে দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকবার বৈঠক হলেও সেসব ফলপ্রসূ হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে জাপান নিজেদের অর্থনীতি টিকিয়ে রাখার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে। ওই মুহূর্তে জাপানের সামনে কয়েকটি বিকল্প ছিল। প্রথম বিকল্প ছিল তাদের সাম্রাজ্যবাদী সামরিক অভিযান বন্ধ করা এবং সে পথ থেকে সরে আসা। দ্বিতীয় বিকল্পটি ছিল স্থিতাবস্থা বজায় রাখা।
তবে যেকোনো বিকল্পই নিক না কেন, এটি শেষ পর্যন্ত জাপানের অর্থনীতিকে স্থবির করে দিত। তা ছাড়া এ দুটি বিকল্পই জাপানের জন্য ‘সম্মানহানির’ কারণ হতো।
নিষেধাজ্ঞার ক্ষতি পোষাতে এবং নিজস্ব অর্থনৈতিক প্রভাব বলয় প্রতিষ্ঠা করার জন্য জাপান তৃতীয় বিকল্পটি গ্রহণ করে। মালয় উপদ্বীপ, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অংশ এবং সেই সঙ্গে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অনেক দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরিকল্পনা করে দেশটি।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে জাপানি নেতারা প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি দূর করতে বা অন্তত কমিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। এই নৌবাহিনীর পূর্ব চীন সাগরের জাহাজ চলাচল ব্যাহত করার ও বৃহত্তর পূর্ব এশিয়া নিয়ে জাপানের পরিকল্পনাকে ব্যর্থ করে দেওয়া সম্ভাবনা ছিল।
উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের পার্ল হারবারে ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় নৌঘাঁটি। ঘাঁটিটি বানানো হয় ১৯০৮ সালে। এরপর ১৯৪০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান নৌঘাঁটি ক্যালিফোর্নিয়া থেকে হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের পার্ল হারবারে স্থানান্তর করা হয়।
কৌশলগত দিক থেকে এই ঘাঁটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক এলাকা। যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় দুই হাজার মাইল ও জাপান থেকে প্রায় চার হাজার মাইলে দূরে অবস্থিত ছিল এই নৌঘাঁটি।
১৯৪১ সালের ২৬ নভেম্বর জাপানি বাহিনী ছয়টি বিমানবাহী রণতরি নিয়ে পার্ল হারবার আক্রমণের জন্য অগ্রসর হয়। জাহাজগুলোর সঙ্গে ছিল ৩৫৩টি বিমান, তিনটি ক্রুজার, ১১টি ডেস্ট্রয়ার ও কয়েকটি ছোট ডুবোজাহাজ। ৭ ডিসেম্বর সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে জাহাজ থেকে বোমারু বিমান উড়ে গিয়ে পার্ল হারবারের নৌঘাঁটি লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালাতে থাকে।
জাপানকে আগ্রাসী হিসেবে দেখানোর পরিকল্পনা
ইতিহাসবিদদের কেউ কেউ এবং ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বিশ্বাসীদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট জাপানের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য অস্থির হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু কথিত ‘মার্কিন নিরপেক্ষতার’ কারণে সেভাবে এগোতে পারছিলেন না। তাই যুদ্ধে জড়ানোর জন্য একটি শক্ত কারণের প্রয়োজন ছিল। আর সেই মোক্ষম সুযোগটি তৈরি করে দেয় পার্ল হারবারে হামলা।
তবে অন্যরা বলছেন, এই দাবির কোনো ভিত্তি নেই। ১৯৪১ সালে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ছিল না। ব্রিটেন ও রাশিয়ার পাশাপাশি মার্কিন বাহিনী যখন অস্ত্রের জন্য অপেক্ষা করছিল, তখন রুজভেল্ট জানতেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা তৈরি করতে তাঁর আরও সময় প্রয়োজন। আর যুদ্ধ যদি আসতেই হয়, তবে তিনি চেয়েছিলেন জাপানকে যেন আগ্রাসী হিসেবে দেখানো যায়। এ জন্য রুজভেল্টের তেমন তাড়াহুড়ো ছিল না।
এই আণবিক বোমা হামলাকে জাপানি আগ্রাসন প্রতিহত করা ও দেশটির নৃশংসতার জবাব হিসেবে ন্যায্যতা দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে পলায়নপর জাপানি বাহিনী যখন আত্মসমর্পণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন আণবিক বোমার এমন নৃশংসতার কতটুকু প্রয়োজন ছিল, এমন প্রশ্ন তুলেছেন সমরবিদ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা। এটা কি নিছকই প্রতিশোধের অংশ ছিল? নাকি পরবর্তী বিশ্বব্যাবস্থা কার নিয়ন্ত্রণে, কেমন হবে; আদতে সে বার্তাই দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র?
এমন নয় যে পার্ল হারবারে হামলার বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনকে সতর্ক করা হয়নি। জাপান হামলার পরিকল্পনা করছে বলে ১৯৪১ সালের জানুয়ারিতে টোকিওতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছিলেন। এটিকে অগ্রাহ্য করা হয়েছিল।
ফেব্রুয়ারি ও জুলাই মাসে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের দেওয়া সতর্কবার্তাগুলোও উপেক্ষা করা হয়েছিল। তারা ওয়াহুর কাছে বিপুল পরিমাণে যুদ্ধবিমান মোতায়েনের পরামর্শ দিয়েছিলেন। অবশ্য এটি ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এতটা সহজ ছিল না। এ ছাড়া হামলার ১০ দিন আগে ওয়াশিংটন থেকে হাওয়াইয়ে পাঠানো যুদ্ধের সতর্কবার্তা কার্যত উপেক্ষা করা হয়েছিল।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও পারমাণবিক দুঃস্বপ্ন
পার্ল হারবারে জাপানের হামলার খবর দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষ হতবাক ও ক্ষুব্ধ হন। তাঁরা দাবি তোলেন পাল্টা হামলা চালানোর। পার্ল হারবারে হামলার পরদিন স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টায় প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট কংগ্রেসে একটি ভাষণ দেন। ভাষণে তিনি বলেন, ‘১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর এমন একটি দিন, যা কলঙ্ক নিয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
ভাষণের শেষে রুজভেল্ট কংগ্রেসকে জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার জন্য অনুরোধ জানান। একজন আইনপ্রণেতা ছাড়া সবাই যুদ্ধ ঘোষণা করার পক্ষে ভোট দেন। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঘোষণা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র জড়িয়ে পড়লে বদলে যায় দৃশ্যপট। একের পর পরাজয়ে সংকুচিত হতে থাকে জাপানের সম্রাট হিরোহিতোর সাম্রাজ্য। এর মধ্যেই আসে মানব ইতিহাসের এক ভয়ংকর দিন। ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট জাপানের প্রধান দ্বীপ হনশুর হিরোশিমায় ‘লিটল বয়’ আণবিক বোমা ফেলে যুক্তরাষ্ট্র।
হামলার সময় ও এর ভয়াবহ তেজস্ক্রিয়তার কারণে বছরের শেষ পর্যন্ত নিহত মানুষের সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখ ৪০ হাজার। সে সময় হিরোশিমার বাসিন্দা ছিল ৩ লাখ ৫০ হাজার। এর তিন দিন পর নাগাসাকি শহরে যুক্তরাষ্ট্র ‘ফ্যাট ম্যান’ নামে আরেকটি আণবিক বোমা ফেলে। সেদিনই ৭০ হাজারের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। দীর্ঘ মেয়াদে নিহত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল আরও অনেক বেশি।
এই আণবিক বোমা হামলাকে জাপানি আগ্রাসন প্রতিহত করা ও দেশটির নৃশংসতার জবাব হিসেবে ন্যায্যতা দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে পলায়নপর জাপানি বাহিনী যখন আত্মসমর্পণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন আণবিক বোমার এমন নৃশংসতার কতটুকু প্রয়োজন ছিল, এমন প্রশ্ন তুলেছেন সমরবিদ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা। এটা কি নিছকই প্রতিশোধের অংশ ছিল? নাকি পরবর্তী বিশ্বব্যাবস্থা কার নিয়ন্ত্রণে, কেমন হবে; আদতে সে বার্তাই দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র?
তথ্যসূত্র: বিবিসি হিস্টোরি, এশিয়ান স্টাডিজ ও থট কো ওয়েবসাইট