রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, এ কথার মধ্য দিয়ে চীন সম্ভবত স্বশাসিত দ্বীপটি ঘিরে কয়েক দিন ধরে চালানো সামরিক মহড়া শেষ করার ইঙ্গিত দিয়েছে। একই সঙ্গে তারা তাইওয়ানের ওপর চাপ বজায় রাখার আভাস দিয়েছে।

গত সপ্তাহে চীনের মহড়ায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র তাইওয়ানের রাজধানী তাইপের ওপর দিয়ে উড়ে গেছে। এতে তাইওয়ানের আকাশপথ ও সমুদ্রপথ ব্যবহার করে হামলার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার তাইওয়ানের পক্ষ থেকেও তুলনামূলকভাবে ছোট আকারের বার্ষিক সামরিক মহড়া চালানো হয়। একই দিনে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে বিমানবাহিনীর সদর দপ্তরে যান। তিনি বলেন, ‘এখনো চীনের সামরিক বাহিনীর হুমকির অবসান হয়নি। কিন্তু তাইওয়ান সংঘাত বাড়াবে না বা কোনো উসকানি দেবে না। আমরা দৃঢ়ভাবে আমাদের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা করব এবং স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের প্রতিরক্ষার নিয়ম মেনে চলব।’

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে একটি সূত্র বলছে, তাইওয়ান প্রণালিতে তাইওয়ান ও চীনের অঘোষিত সীমান্তে গতকাল পর্যন্ত ১০টির কম যুদ্ধজাহাজ দেখা গেছে। আগের কয়েক দিনের তুলনায় এই সংখ্যা অনেক কম। চীনের নৌবাহিনীর কয়েকটি জাহাজ তাইওয়ান পূর্ব উপকূল ও জাপানের ইয়ানগুনি দ্বীপের কাছে তাদের মিশন পরিচালনা করছে। দ্বীপটি তাইওয়ান থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে। এ ছাড়া কয়েকটি চীনের ফাইটার জেট বিমান গতকাল তাইওয়ান প্রণালিতে উড়তে দেখা গেছে।

এদিকে বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, তাইওয়ান ঘিরে বেইজিং সর্ববৃহৎ সামরিক মহড়া শেষ করার পর গতকাল আরেকটি সশস্ত্র মহড়া করে তাইপে। তাইওয়ানের অষ্টম আর্মি কর্পসের মুখপাত্র লো ওয়ে জায়ি বলেন, প্রতিরক্ষামূলক মহড়ার অংশ হিসেবে তাদের বাহিনী হাউইটজার ছোড়ে ও গুলি চালানোর মহড়া করেছে। তাইওয়ানের পিংটং কাউন্টিতে এক ঘণ্টার এ মহড়া চলে। এর আগে গত মঙ্গলবার সেখানে কয়েক শ সেনা একই রকম মহড়া করেছিলেন। সামরিক বাহিনী বলেছে, এ মহড়া পূর্বনির্ধারিত ছিল। চীনের হুমকির প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, তাইওয়ানের সামরিক বাহিনী যে চাপের মধ্যে ছিল, তা সাই স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, চীনের সাম্প্রতিক সামরিক উসকানির মুখে দেশের সশস্ত্র বাহিনী সম্মুখভাগে ছিল। এখন তাঁদের কর্তব্য আরও কঠিন হবে ও চাপ আরও বাড়বে।

বৃহস্পতিবার তাইওয়ানের আশপাশে সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি চীনের সামরিক বাহিনী। তবে দুই পক্ষই কথার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। বেইজিং বলেছে, এক দেশ দুই সিস্টেম মডেলে তারা তাইওয়ানকে নিয়ন্ত্রণে রাখবে। তাদের এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে তাইপে। তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জোয়ানে ওউ বলেছেন, কেবল তাইওয়ানের জনগণ এর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। তাইওয়ানের জনগণকে ভয় দেখিয়ে নতুন স্বাভাবিকতা তৈরি করতে পেলোসির তাইপে সফরকে চীন একটি অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন বলেছেন, ‘মাতৃভূমির সঙ্গে সম্পূর্ণ পুনর্মিলন অর্জন অপ্রতিরোধ্য ঐতিহাসিক প্রবণতা। আমরা শান্তিপূর্ণ পুনর্মিলনের জন্য ব্যাপক ছাড় দিতে প্রস্তুত। কিন্তু তাইওয়ানের স্বাধীনতার জন্য বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপে কখনোই কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন