১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট হিরোশিমায় মার্কিন বিমানের ফেলা পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরিত হওয়ার মুহূর্তে সভ্যতা প্রবেশ করে নতুন এক যুগে। এ যুগ নিয়ে গর্ববোধ করার যে কিছুই নেই, তা হিরোশিমার সেদিনের ধ্বংসযজ্ঞ ও পরবর্তী প্রতিক্রিয়া বিশ্ববাসীকে পরিষ্কারভাবে দেখিয়েছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস তাঁর ভাষণে বলেন, নতুন একটি অস্ত্র প্রতিযোগিতা এখন গতি পাচ্ছে। পারমাণবিক অস্ত্র হাতে থাকা কোনো রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

৬ আগস্ট, শনিবার হিরোশিমা স্মরণ করেছে ১৯৪৫ সালের দিনটিতে ধ্বংসের তাণ্ডবলীলাকে। ওই বোমা হামলায় প্রাণ হারাতে হয়েছিল ১ লাখ ৪০ হাজার শহরবাসীকে। পরে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান আরও লক্ষাধিক মানুষ।

হিরোশিমা শহরের শান্তি স্মৃতি উদ্যানে শনিবার সকালে আয়োজিত স্মারক অনুষ্ঠানে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

হিরোশিমা শান্তি ঘোষণায় পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতির পথে এগিয়ে যাওয়ায় রাশিয়ার কড়া সমালোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে ৯৯টি দেশের রাষ্ট্রদূত উপস্থিত থাকলেও রাশিয়া ও বেলারুশের রাষ্ট্রদূতদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

এই শহরে বোমা বিস্ফোরণের সময় সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় স্মারক অনুষ্ঠানটি। হিরোশিমার মেয়র কাযুমি মাৎসুই সেখানে হিরোশিমা শান্তি ঘোষণা পাঠ করেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি জাতিসংঘ মহাসচিবও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

শান্তি ঘোষণায় পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতির পথে এগিয়ে যাওয়ায় রাশিয়ার কড়া সমালোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে ৯৯টি দেশের রাষ্ট্রদূত উপস্থিত থাকলেও রাশিয়া ও বেলারুশের রাষ্ট্রদূতদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

শান্তি ঘোষণার শুরুতে মেয়র মাৎসুই ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীর স্কুলে যাওয়ার আগে মায়ের সঙ্গে কথা বলার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, ‘৭৭ বছর আগে এই দিনে ওই কিশোরী টের পায়নি, মায়ের সঙ্গে সেটিই হবে তার শেষ বিদায়। এমন মর্মান্তিক ঘটনা বিশ্বের কোথাও যেন আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য দরকার হবে, পারমাণবিক অস্ত্রের যেসব বোতাম বিশ্বের নানা দেশে সক্রিয় রয়েছে, সেগুলো অকেজো করে দেওয়া।’

১৬ বছর বয়সী এক কিশোরী স্কুলে যাওয়ার আগে মায়ের সঙ্গে কথা বলেছিল। ৭৭ বছর আগে এই দিনে ওই কিশোরী টের পায়নি, মায়ের সঙ্গে সেটিই হবে তার শেষ বিদায়।
কাযুমি মাৎসুই, হিরোশিমার মেয়র

ঘোষণায় আরও উল্লেখ করা হয়, বিশ্বের পাঁচটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ চলতি বছরের আগে পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধের চুক্তি মেনে চলতে পুনরায় অঙ্গীকার করেছিল। তারা বলেছিল, পারমাণবিক যুদ্ধে বিজয় সম্ভব নয় এবং এ ধরনের যুদ্ধ চালানো উচিত হবে না। তবে এ কথা বলার পরও দেশগুলো প্রতিশ্রুতি পূরণে এগিয়ে আসছে না।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা তাঁর ভাষণে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়ার অগ্রযাত্রা গতি হারিয়ে ফেলায় হতাশা প্রকাশ করেন। পারমাণবিক অস্ত্র আবারও ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দিন দিন অবনতি হতে থাকা নিরাপত্তা পরিবেশের ‘বাস্তবতার’ সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত একটি বিশ্বের ‘আদর্শগত ধারণার’ সংযোগ ঘটাতে জাপান কাজ করে যাবে।

কিশিদা হিরোশিমার একটি নির্বাচনী এলাকা থেকে পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এ কারণে শহরটিতে পারমাণবিক বোমা হামলার ঘটনাকে তিনি অনেক কাছের ভাবনা হিসেবে দেখেন। অনেকটা তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগে ২০২৩ সালের মে মাসে জি-৭–এর বার্ষিক শীর্ষ বৈঠক হিরোশিমায় অনুষ্ঠিত হবে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস তাঁর ভাষণে বলেন, নতুন একটি অস্ত্র প্রতিযোগিতা এখন গতি পাচ্ছে। পারমাণবিক অস্ত্র হাতে থাকা কোনো রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন