ইনস্টাগ্রামে রোজির এক ভক্ত প্রশ্ন করেছেন, ‘তুমি কি সত্যি কোনো মানুষ?’ কেউ প্রশ্ন করেছেন, ‘তুমি কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সফটওয়্যার, নাকি কোনো রোবট?’ রোজির নির্মাতা সিউলভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সিডুস স্টুডিও এক্সের তথ্য অনুযায়ী, রোজি ব্যক্তি, রোবট আবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন প্রোগ্রাম—তিন রূপেই থাকতে পারে। মানুষ যা করতে পারে না, তার প্রায় সবকিছুই রোজি মানবরূপ নিয়ে করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে বিলিয়ন ডলারের বিজ্ঞাপন ও বিনোদনজগতের কোম্পানিগুলোর জন্য মুনাফা অর্জন।

সিডুস স্টুডিও এক্স ২০২০ সালে রোজিকে সামনে আনে। এর পর থেকে রোজি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি, স্পনসরশিপ, ভার্চ্যুয়াল ফ্যাশন শোতে অংশগ্রহণ ছাড়া দুটি গানও গেয়েছে। মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন বলছে, বিজ্ঞাপন ও বিপণনজগতের প্রভাবক হিসেবে রোজি একাই কাজ করছে না, ভার্চ্যুয়াল মানুষ বা ‘ভার্চ্যুয়াল হিউম্যান’শিল্প খাত এখন দ্রুত বড় হচ্ছে। একই সঙ্গে বড় হচ্ছে এর অর্থনীতিও। এখানে মানুষের যেমন সীমাবদ্ধতা থাকে, ভার্চ্যুয়াল মানুষের তা থাকে না। তারা কখনো বুড়ো হয় না। এ ছাড়া ডিজিটাল ত্রুটিহীন এসব ইনফ্লুয়েন্সার বিভিন্ন দেশে সৌন্দর্যের মান নিয়ে আচ্ছন্ন থাকা ব্যক্তিদের মনে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

রোজিকে যে কম্পিউটার-জেনারেটেড ইমেজারি (সিজিআই) প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে, তা একেবারে নতুন নয়। এটি বিনোদনশিল্পে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। চলচ্চিত্র, কম্পিউটার গেম এবং মিউজিক ভিডিওতে বাস্তবসম্মত ভার্চ্যুয়াল চরিত্র তৈরি করতে এটি ব্যবহার করা হয়। কখনো কখনো সিডুস স্টুডিও এক্স প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাথা থেকে পা পর্যন্ত রোজির একটি চিত্র তৈরি করে। এ পদ্ধতি তার ইনস্টাগ্রাম ছবিগুলোর জন্য ভালো কাজ করে। এ ছাড়া পোশাকের মডেলিং করার সময় রোজির চেহারা ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন