এর আগে গত আগস্টে এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, পুতিন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের আয়োজিত সম্মেলনের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার কারণে পুতিনকে ওই সম্মেলনে আসা ঠেকাতে পশ্চিমা দেশগুলো প্রকাশ্যে তৎপরতা শুরু করেছে।

তবে গত বৃহস্পতিবার জাকার্তার রুশ দূতাবাস রয়টার্সকে জানিয়েছে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জি-২০ নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না।
জাকার্তায় রুশ দূতাবাসের চিফ প্রটোকল কর্মকর্তা ইউলিয়া তোমস্কায়া বলেন, ‘আমি নিশ্চিত করতে পারি, জি-২০ সম্মেলনে (পররাষ্ট্রমন্ত্রী) সের্গেই লাভরভ রুশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। তবে প্রেসিডেন্ট পুতিনের অংশগ্রহণের বিষয়ে এখনো কাজ চলছে, তিনি ভার্চ্যুয়ালি অংশগ্রহণ করতে পারেন।’

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, জি-২০ সম্মেলনে পুতিনের বদলে রাশিয়ার শীর্ষ কূটনীতিক সের্গেই লাভরভ উপস্থিত থাকতে পারেন। গত জুলাই মাসে সের্গেই লাভরভ জি-২০-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক বর্জন করেন। ওই বৈঠকে ইউক্রেনে সামরিক হামলার নিন্দা জানানো হয়েছিল।

এদিকে যুক্তরাজ্যে কনজারভেটিভ দলের নেতৃত্ব নির্বাচনের সময় ঋষি সুনাক বলেছিলেন, জি-২০ সম্মেলনে পুতিন উপস্থিত থাকলে তিনি সম্মেলনে যোগ দেবেন না।
তবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর জি-২০ জোটভুক্ত বিশ্বনেতাদের সঙ্গে এটাই প্রথম পরিচয়-সাক্ষাৎ হবে ঋষির। এ কারণে ঋষি সুনাকের আগের অবস্থান কিছুটা নরম হয়েছে।

সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের অংশগ্রহণের ঘোরবিরোধী পশ্চিমা দেশগুলো। গত এপ্রিলে জি-২০ নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রাশিয়ার উপস্থিতির বিরোধিতা জানাতে ওই বৈঠক বর্জন করেছিলেন পশ্চিমা অর্থমন্ত্রী। এ কারণে পুতিন বালিতে অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনে যোগ দিলে, অন্য নেতাদের সেখানে যোগ না দেওয়ার জন্য চাপ থাকতে পারে।

এদিকে জি-২০ সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সমঝোতার লক্ষ্য নিয়ে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইউক্রেন অবশ্য জি-২০-এর সদস্য নয়। তবে জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি সম্মেলনে ভার্চ্যুয়ালি যোগ দেবেন। তবে তিনি এ-ও বলেছেন, সম্মেলনে পুতিন উপস্থিত থাকলে তিনি যোগ দেবেন না।