শ্রীলঙ্কায় অর্থের অভাবে স্থানীয় নির্বাচন হচ্ছে না
আগামী মাসেই শ্রীলঙ্কার স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। কিন্তু দেউলিয়া হয়ে যাওয়া শ্রীলঙ্কা অর্থের সংকটে এই নির্বাচন স্থগিত করতে যাচ্ছে। দেশটির এক শীর্ষ কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। এ নিয়ে বিরোধীদের বিক্ষোভের মুখে আজ মঙ্গলবার সংসদ মুলতবি হয়ে গেছে।
আগামী ৯ মার্চের স্থানীয় নির্বাচন শ্রীলঙ্কার বর্তমান প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহের জন্য বড় এক পরীক্ষা ছিল। অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে টানা কয়েক মাসের বিক্ষোভের মুখে গোতাবায়া রাজাপক্ষে পালিয়ে যাওয়ার পর গত বছরের জুলাইয়ে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন রনিল।
আদালতে জমা দেওয়া শ্রীলঙ্কার নির্বাচন কমিশনের নথিপত্রে বলা হয়েছে, রাজস্ব বিভাগ ব্যালট ছাপানোর তহবিল দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এ ছাড়া নির্বাচনের কাজে ব্যবহৃত গাড়ির জ্বালানি, বুথের প্রতিরক্ষায় পুলিশ মোতায়েনসহ অন্যান্য খরচও পাওয়া যাবে না।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিমাল পুঞ্চিহেয়া বলেন, ‘আমি সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু এখন আমি আদালতকে জানাচ্ছি, সরকার তহবিল না জোগাতে পারলে আমরা নির্বাচন করতে পারব না।’
এর আগে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন অসম্ভব। কারণ, কমকর্তা–কর্মচারীদের বেতন–ভাতা, পেনশন ও প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়ার মতো যথেষ্ট রাজস্ব সরকারের কাছে নেই। বিক্ষোভের মুখে গোতাবায়া রাজাপক্ষের পদত্যাগের পর বিক্রমাসিংহে প্রেসিডেন্ট হয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল থেকে ঋণ পাওয়ার চেষ্টা করছেন। এ প্রচেষ্টায় করবৃদ্ধি ও মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর করেছে তাঁর সরকার।
আজ মঙ্গলবার বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা বিক্ষোভ করেন। তাঁরা সরকারবিরোধী প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। তাঁদের অভিযোগ, সরকার ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার চেষ্টা করছে। প্রতিবাদের মুখে গতকাল পার্লামেন্টের অধিবেশন মুলতবি করা হয়।
বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য উইমালণ বীরাসেনা বলেন, সরকার অর্থনৈতিক সংকটকে কাজে লাগিয়ে গণতন্ত্রকে নস্যাৎ ও নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করছে। দেশটির আদালত আগামী বৃহস্পতিবার স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে রায় দেবেন। কিন্তু নির্বাচন করার রায় দিলেও সরকার অর্থ জোগাতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থাকছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করতে এক হাজার কোটি শ্রীলঙ্কান রুপি খরচ হবে। কিন্তু ২ কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার এক বছরের বেশি সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে দেশটিতে প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর সংকট রয়েছে। দেশটির দেনা ৪ হাজার ৬০০ কোটি মার্কিন ডলার। গত এপ্রিলে শ্রীলঙ্কা ঋণখেলাপি হয়।