তবে অপরাধী শনাক্তে সম্প্রতি উদ্ভাবিত নতুন ডিএনএ প্রযুক্তির ব্যবহার করে দেশটির তদন্তকারী কর্মকর্তারা এখন জানতে পেরেছেন, এসব ঘটনায় কেইথ সিমসই জড়িত ছিলেন। গত ফেব্রুয়ারিতে ৬৬ বছর বয়সে মারা যান এই অপরাধী। কখনো ‘দ্য বোনদি বিস্ট’ কখনোবা ‘দ্য ট্র্যাকস্যুট রেপিস্ট’ নামে পরিচিত কেইথ সিমসের হাতে প্রথম এক নারী আক্রান্ত হয়েছিলেন ১৯৮৫ সালে কোভেলি নামে সমুদ্রতীরবর্তী একটি শহরের উপকণ্ঠে। তাঁর সর্বশেষ শিকার ২০০১ সালে কোভেলির কাছেই একটি কবরস্থানে।  

যখন এসব ঘটনা ঘটে তখন প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করা হয়েছিল। তবে তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসব ঘটনার মধ্যে সাদৃশ্য খুঁজতে শুরু করেন এ শতকের প্রথম দশক থেকে। আক্রান্ত ১২ নারীর কাছ থেকে সংগৃহীত ডিএনএ একই পাওয়া যায়। আরও ২৯টি ঘটনায়ও আক্রমণকারীকেই একই কায়দায় অপকর্ম করতে দেখা যায়। আক্রান্ত এসব নারীর বয়স ১৪ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে। তাঁদের প্রত্যেকেই নিপীড়ক সম্পর্কে একই ধরনের বর্ণনা দিয়েছেন।

কৃষ্ণবর্ণের কেইথ সিমসের উচ্চতা ছিল ১৬০–১৮০ সেন্টিমিটার। চোখ ছিল ধূসর আর নাক ছিল চ্যাপটা। তিনি তাঁর মুখ ঢেকে রাখতেন। ট্র্যাকস্যুট, হুডি ও ফুটবল খেলায় পরিধেয় ছোট ছোট পোশাকের মতো সাদামাটা ধরনের পোশাক পরতেন। আক্রমণের আগে ছুরি নিয়ে ভয় দেখাতেন অথবা তাঁর কাছে ছুরি আছে এমন অঙ্গভঙ্গি করতেন।  

২০১৯ সালে এসে এসব হামলার ঘটনা নিয়ে তদন্ত নতুন মোড় নেয়। তদন্তকারী কর্মকর্তারা পুলিশের একটি ডেটাবেজে পরিচিত একটি ডিএনএর নমুনা খুঁজে পান। এতে করে এসব ঘটনার জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তারা যেসব ব্যক্তিকে এত দিন ধরে সন্দেহ করছিলেন সে সংখ্যাটা কমে ৩২৪ জনে নেমে আসে। গত সেপ্টেম্বরে সিমসের ডিএনএর একটি নমুনা আক্রান্ত নারীদের কাছ থেকে সংগৃহীত ডিএনএ নমুনার সঙ্গে মিলে যায়।

অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, কেইথ সিমসের পরিবার ও বন্ধুরা যে বর্ণনা দিয়েছেন সে অনুযায়ী একজন বাবা ও দাদা ও কমিউনিটির সদস্যদের কাছে প্রতিবেশী হিসেবে সিমস একজন ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। যে গোয়েন্দা কর্মকর্তা সিমসের পরিবারের কাছে প্রথম তাঁর এসব ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি জানান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সিমস যে এমন গর্হিত কাজ করতে পারেন তাঁর পরিবারের সদস্যদের এ নিয়ে কোনো ধারণা ছিল না।

গোয়েন্দা কর্মকর্তা সার্জেন্ট শেলী জোনস ডেইলি টেলিগ্রাফকে বলেছেন, ‘আমরা তাঁর (সিমস) স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। এটা শুনে তিনি মুষড়ে পড়েন। তিনি বিশ্বাসই করতে পারেননি, যে মানুষটিকে  জানতেন তিনি এসব কাজ করতে পারেন।’