গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে সেনা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন বেসামরিক সরকারকে উৎখাতের পর থেকে মিয়ানমার রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মধ্যে আছে। তখন থেকে এ পর্যন্ত হাজারো মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে গতকাল শুক্রবার কম্বোডিয়ায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর আঞ্চলিক জোটের (আসিয়ান) সম্মেলনের প্রথম দিনেও প্রাধান্য পেয়েছে মিয়ানমার সংকট। যদিও জোটটি এখন পর্যন্ত ফলপ্রসূ কোনো কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে পারেনি।

শনিবার গুতেরেস সাংবাদিকদের বলেন, মিয়ানমারের পরিস্থিতি জনগণের জন্য এক অন্তহীন দুঃস্বপ্ন এবং অঞ্চলটির শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তিনি আরও বলেন, ‘আমি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে আহ্বান করছি, তারা যেন তাদের জনগণের কথা শোনে, রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দেয় এবং অবিলম্বে গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন করে। এটিই স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ।’

আসিয়ান নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর গুতেরেস বলেন, শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে জান্তার সঙ্গে যে সমঝোতা হয়েছে তা কার্যকর হওয়া জরুরি। মিয়ানমারে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নির্বিচার হামলাকে ভয়ংকর ও হৃদয়বিদারক বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

গত বছরের এপ্রিলে মিয়ানমারে বিশৃঙ্খলা অবসানের লক্ষ্য নিয়ে জান্তার সঙ্গে ‘পাঁচ দফা সমঝোতা’য় পৌঁছেছিল আসিয়ান। তবে এখন পর্যন্ত মিয়ানমারের সেনা জেনারেলরা তা এড়িয়ে গেছেন, তা বাস্তবায়ন করেননি। এ সমঝোতা বাস্তবায়নের জন্য একটি সুদৃঢ় পরিকল্পনা করতে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর নেতারা নিজ নিজ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন।