মুদিতা পেইরিস দাবি করেন, বর্তমানে দ্বীপরাষ্ট্রটিতে গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুত আছে। এ কারণে ভবিষ্যতে গ্যাসের জন্য জনগণকে আর লাইনে দাঁড়াতে হবে না বলেও আশাবাদী তিনি। আগামী অক্টোবর মাস পর্যন্ত ব্যবহার করার মতো গ্যাসের অর্ডার দেওয়া হয়েছে। আর এ জন্য আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাস পর্যন্ত শিপমেন্ট নিশ্চিত হওয়া গেছে।

খারাপ আবহাওয়া কিংবা কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে গ্যাস আনলোড করা না গেলে হয়তো দু–একদিন দেরি হতে পারে। তবে কোনো ধরনের লাইন ছাড়াই জনগণ যাতে প্রয়োজনীয় গ্যাস পেতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

চীনের জাহাজকে অপেক্ষা করতে বলল কলম্বো

ভারতের আপত্তির কারণে হাম্বানটোটা বন্দর পরিদর্শন করতে আসা চীনের জাহাজকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অপেক্ষা করতে বলল শ্রীলঙ্কা। বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে। চীনা জাহাজটি গুপ্তচরবৃত্তির উদ্দেশে শ্রীলঙ্কায় এসেছে বলে এটির উপস্থিতি নিয়ে আশঙ্কার কথা জানিয়ে আসছিল ভারত। দেশটির সংবাদমাধ্যম বিষয়টি নিয়ে টানা খবর প্রচার করে আসছিল।

চীনের গবেষণা ও জরিপ জাহাজ ইউয়ান ওয়াং-৫ গত মঙ্গলবার সে দেশের জিয়ানইয়াং বন্দর থেকে ছেড়ে আসে। আগামী বৃহস্পতিবার এটি শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা বন্দরে পৌঁছানোর কথা ছিল। মেরিন ট্রাফিকের ওয়েবসাইটে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ভারতীয় টেলিভিশন সিএনএন নিউজ ১৮-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, জাহাজটি চীন সরকারের গুপ্তচরবৃত্তি ও গবেষণা দুটি বিষয়েই কাজ করতে সক্ষম। এ জন্যই এটি শ্রীলঙ্কায় এসেছে। এ কারণে জাহাজটির উপস্থিতি নিয়ে কলম্বোকে আগেও উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলেন ভারতীয় কর্মকর্তারা। অত্যাধুনিক এই জাহাজ স্যাটেলাইট ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে জল ও স্থলের সব তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম। এ ছাড়া আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণেও সক্ষম জাহাজটি। এ কারণে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত।

অর্থনৈতিক সংকটের কারণে টালমাটাল শ্রীলঙ্কায় চীন প্রভাব বাড়াতে চাইছে, এমনটা সন্দেহ করছে ভারত। এ জন্য গত সপ্তাহেই ভারতের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক চ্যানেলে এ বিষয়ে উদ্বেগের কথা শ্রীলঙ্কা সরকারকে জানানো হয়েছিল। তবে উদ্বেগের বিষয়টি নাকচ করে দেওয়ার পর কলম্বোয় ভারতীয় হাইকমিশন কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। প্রতিবেশী দেশ শ্রীলঙ্কায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব বিস্তারের ঘটনায় আগে থেকেই ভারতের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা রয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে গত শুক্রবার শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে দেশটির রাজনৈতিক নেতাদের আশ্বস্ত করেছিলেন—কোনো ধরনের বিতর্কিত পরিদর্শন করতে দেওয়া হবে না।

২০০৫ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত প্রায় এক দশক শ্রীলঙ্কার রাজনীতিতে চীনের যথেষ্ট প্রভাব ছিল। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষে চীনের সমর্থনপুষ্ট ছিলেন বলে বলা হচ্ছে। চলমান অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বিক্ষোভের মুখে গত মাসে মাহিন্দার ভাই গোতাবায়া রাজাপক্ষে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন