সম্মেলনে ইউক্রেনের অর্থমন্ত্রী সেরহি মারচেঙ্কো ভার্চ্যুয়ালি বক্তব্য দেন। ইউক্রেনে আগ্রাসন চালানোয় রাশিয়ার বিরুদ্ধে ‘আরও কঠিন সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা’ আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এই যুদ্ধকে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ বলছে ক্রেমলিন। গত সপ্তাহে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনসহ জি-২০–এর বৈঠকগুলোর আলোচনায় এই যুদ্ধই বেশি জায়গা করে নিয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পেরি ওয়ারজিয়ো আজ বলেছেন, সদস্য দেশগুলো ফলপ্রসূ আলোচনা করেছে। তবে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে সমর্থন দিতে জি-২০কে অবশ্যই দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে।

দ্বিতীয় দিনের উদ্বোধনী ভাষণে তিনি বলেন, ‘এ বছর আমরা যা অর্জনের পরিকল্পনা করেছি, আমাদের সে বিষয়ে জোর দেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সমর্থন প্রদানে জি-২০র ভূমিকা ও প্রচেষ্টার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইতিবাচক বার্তা দেবে।’

শ্রী মুল্যানি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ক্রমবর্ধমান খাদ্যনিরাপত্তা সংকট এবং নিম্ন আয়ের দেশগুলোর ঋণ পরিশোধের সামর্থ্যের ওপর ছড়িয়ে পড়া প্রভাব সম্মিলিতভাবে মোকাবিলায় এই যুদ্ধের বিষয়ে প্রতিনিধিরা তাঁদের মতপার্থক্য দূর করতে পারবেন।

তবে বর্তমান আবহে এটি খুবই কঠিন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। কারণ, পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ইউক্রেনে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ করছে, যা মস্কো অস্বীকার করে আসছে। এদিকে এ বিষয়ে চীন, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ জি-২০–এর অন্য দেশগুলো অনেকটাই নিশ্চুপ রয়েছে।

পশ্চিমা সূত্রগুলো সপ্তাহের শুরুর দিকে সতর্ক করে বলেছে, সংস্থাটি মতৈক্যের ভিত্তিতে কাজ করে বিধায় যৌথ ঘোষণার বিষয়ে একমত হওয়াটা কঠিন হবে। এতে অর্থনৈতিক মন্দার কারণ হিসেবে দায়ী করে ব্যবহৃত ভাষা আটকে দিয়েছে রাশিয়া। যে কারণ বিশ্বব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলকে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমাতে প্ররোচিত করেছে।

ফ্রান্সের অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলেছে, ‘জি-২০–এর কাজ করার ও যোগাযোগের সামর্থ্য ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে, যার জন্য জি-২০–এর এক সদস্য পুরোপুরি দায়ী।’

আজ অন্য বিষয়গুলোর মধ্যে মহামারি–পরবর্তী আর্থিক স্থিতিশীলতা, ক্রিপ্টো-সম্পদ এবং জলবায়ু-সম্পর্কিত আর্থিক ঝুঁকি নিয়ে জোটের আলোচনা করার কথা রয়েছে।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন