দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউনের ৫ বছরের কারাদণ্ড

দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলফাইল ছবি: এএফপি

দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক–ইওলকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ব্যর্থ সামরিক আইন জারির পর তাঁকে গ্রেপ্তারে বাধা দেওয়া এবং সরকারি ক্ষমতা অপব্যবহারের অভিযোগে এই সাজা দেওয়া হলো।

আজ শুক্রবার সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট এই রায় ঘোষণা করেন। দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টকে গ্রেপ্তারের পর সাজা দেওয়ার ঘটনা ঘটল।

রায়ে আদালত বলেন, ইউন সুক–ইওল তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা বাহিনীকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন এবং বৈধ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে বাধা দিয়েছেন, যা ক্ষমতার চরম অপব্যবহার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৬৫ বছর বয়সী ইউনের বিরুদ্ধে সরকারি নথি জালিয়াতি এবং মন্ত্রিসভার অনুমোদন ছাড়াই অসাংবিধানিক উপায়ে সামরিক আইন জারির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে যখন বিচারক সাজা ঘোষণা করছিলেন, তখন ইউনকে অনেকটা বিমর্ষ ও রোগা দেখাচ্ছিল। তবে সাজা শুনে তিনি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখাননি।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ইউনের আইনজীবী ইউ জং-হওয়া বলেন, ‘আমরা মনে করি এই রায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব।’ অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা ইউনের বিরুদ্ধে আনা রাষ্ট্রদ্রোহের অন্য একটি মামলায় তাঁর মৃত্যুদণ্ড চেয়েছেন। ওই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি সংসদ স্থগিত করে দেশে সামরিক শাসন জারি করার মাধ্যমে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন

২০২৫ সালে ১৫ জানুয়ারি দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক–ইওলকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুরুতে প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা বাহিনীকে দিয়ে গ্রেপ্তার এড়ানোর চেষ্টা করলেও পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন তদন্তকারী কর্মকর্তারা।

এর আগে ওই মাসের শুরুর দিকে একবার ইউনকে গ্রেপ্তারের জন্য তাঁর বাড়িতে কয়েক ঘণ্টার অভিযান চালান তদন্তকারী কর্মকর্তারা। তবে তাঁর নিরাপত্তা বাহিনীর বাধায় সে অভিযান ব্যর্থ হয়।

২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ায় সামরিক আইন জারি করেছিলেন ইউন। কিন্তু তীব্র প্রতিবাদ-প্রতিরোধের মুখে মাত্র ছয় ঘণ্টার মাথায় তিনি তা প্রত্যাহারে বাধ্য হন। ওই সামরিক আইন এশিয়ার চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ দক্ষিণ কোরিয়ার গণতন্ত্রে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছিল। স্বল্পস্থায়ী এই সামরিক আইন জারির জেরে ১৪ ডিসেম্বর ইউনকে দেশটির পার্লামেন্টে অভিশংসন করা হয়। প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব থেকে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

আরও পড়ুন

ইউন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম কোনো রাষ্ট্রপ্রধান নন, যিনি কারাবরণ করছেন। এর আগে নব্বইয়ের দশকে সাবেক জেনারেল চুন দু-হোয়ানকেও বিক্ষোভ দমনের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, যদিও পরে তাঁকে ক্ষমা করা হয়।

বর্তমানে সিউল ডিটেনশন সেন্টারে বন্দী আছেন ইউন। শুরু থেকেই তিনি দাবি করে আসছেন, বিরোধী দলগুলোর হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতেই তিনি সামরিক আইন জারির পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।

আজ রায় শুনানির আগে আদালত চত্বরের বাইরে ইউনের কয়েক ডজন সমর্থক জড়ো হন। তাঁরা দাবি করেন, ইউন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। তাঁদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডগুলোতে লেখা ছিল, ‘ইতিহাস এর বিচার করবে’ এবং ‘ইউন এখনো প্রেসিডেন্ট’। আদালত এবং আশপাশের এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন ছিল।

আরও পড়ুন