মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই দেড় হাজার আশ্রয়প্রার্থীকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া
মালয়েশিয়া সরকার প্রায় দেড় হাজার মিয়ানমারের নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানো শুরু করেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, গৃহযুদ্ধকবলিত দেশটিতে ফিরিয়ে দেওয়ার এই পদক্ষেপ অভিবাসীদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
মালয়েশিয়ায় অভিবাসীবিরোধী মনোভাব ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ার মধে৵ আটককেন্দ্র থেকে মিয়ানমারের যে পাঁচ হাজার নাগরিক ‘স্বেচ্ছা’য় দেশে ফিরতে রাজি হয়েছে বলে কুয়ালালামপুর জানিয়েছে, মঙ্গলবার পাঠানো দলটি সেই পাঁচ হাজার জনেরই প্রথম অংশ।
জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলছে, মিয়ানমারে ২০২১ সাল থেকে ভয়াবহ যুদ্ধ চলছে, তাই এই দলটির দেশে ফেরা বিপজ্জনক হতে পারে।
প্রথম দলটিতে কতজন রোহিঙ্গা আছে, তা মালয়েশিয়া বা মিয়ানমার কোনো দেশই আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করেনি। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, তাদের এমন একটি দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে, যেখানে তারা নির্যাতনের শিকার হবে, যা গণহত্যারই শামিল। বিষয়টি নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ রয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে এএফপির সাংবাদিকেরা দেখেছেন, স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটার দিকে মালয়েশিয়ার লুমুত নৌঘাঁটি থেকে মিয়ানমার নৌবাহিনীর তিনটি জাহাজ ছেড়ে যায়।
এর মধ্যে ছিল সহায়তাকারী ও হাসপাতাল-জাহাজ থান লুইন এবং উভচর ল্যান্ডিং প্ল্যাটফর্ম জাহাজ মোয়াত্তামা। এই জাহাজগুলোকে আগেও প্রত্যাবাসন বা মিয়ানমারের নাগরিকদের দেশে ফেরত পাঠানোর কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে মিয়ানমারের নাগরিকদের প্রত্যাবাসন বা দেশে ফেরত পাঠানোর কাজ চলছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মিয়ানমার সরকারের একটি আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক চিঠির মাধ্যমে দেওয়া তালিকার ভিত্তিতে আজ (মঙ্গলবার) ১ হাজার ৪৭৬ জন ব্যক্তি প্রত্যাবাসন কর্মসূচির প্রথম ধাপ শুরু করেছে। এতে আরও বলা হয়, মালয়েশিয়ায় আশ্রয়প্রার্থীদের ‘পুরোনো সমস্যা’ সমাধানের সরকারি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই প্রত্যাবাসন চলছে। এসব আশ্রয়প্রার্থীর ৯৫ শতাংশই মিয়ানমারের নাগরিক।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই দীর্ঘদিনের সমস্যাটি জাতির ওপর একটি বড় আর্থিক বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে। এটি গুরুতর সামাজিক সংকটের জন্ম দিয়েছে এবং মালয়েশিয়ার জনগণের জন্য নিরাপত্তার হুমকি তৈরি করেছে।
তবে জেনেভায় জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার মুখপাত্র ম্যাথিউ সল্টমার্শ সাংবাদিকদের বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে আসা প্রায় দেড় হাজার ব্যক্তিকে সে দেশে ফেরত পাঠানোর খবরে আমরা উদ্বিগ্ন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, কাউকেই এমন কোনো দেশে পাঠানো উচিত নয়, যেখানে তারা নির্যাতন, নিপীড়ন, গুরুতর ক্ষতি বা জীবন, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার হুমকির মুখে পড়তে পারে।’