মিয়ানমারের সামরিক–সমর্থিত দলের ভূমিধস জয়, এখনো স্বীকৃতি দেয়নি আসিয়ান
মিয়ানমারে সামরিক–সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) দেশটির সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে বিপুল জয় পেয়েছে। কিন্তু দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১১ দেশের জোট আসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনস (আসিয়ান) এখনো এ নির্বাচনকে স্বীকৃতি দেয়নি।
মিয়ানমারে এবারের জাতীয় নির্বাচনে তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হয়ে গত সপ্তাহে নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষ হয়। এতে দেশটির পার্লামেন্টের নিম্ন ও উচ্চকক্ষে ইউএসডিপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। দলটি নিম্নকক্ষ পিথু হ্লুট্টের ২৬৩টির মধ্যে ২৩২টি এবং উচ্চকক্ষ অ্যাম্যোথা হ্লুট্টে ১৫৭টির মধ্যে ১০৯টি আসনে জিতেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ও আজ শুক্রবার নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ মাধ্যম আজ এ খবর জানিয়েছে।
ইউএসডিপি দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর পক্ষে কাজ করে আসছে। দলটির চেয়ারম্যান একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল। আর শীর্ষপদের অনেকে উচ্চপদস্থ সাবেক সেনা কর্মকর্তা।
মিয়ানমার সেনাবাহিনী ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে। এর কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেশটিতে গেরিলা যুদ্ধ শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জান্তা সরকারবিরোধী বিদ্রোহ ব্যাপক ও তীব্রতর হয়েছে। এতে দেশটির অনেক পুরোনো বিদ্রোহী গোষ্ঠীও যুক্ত হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধে প্রায় ৩৬ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
সেনাবাহিনী ও জান্তা সরকারের প্রধান মিন অং হ্লাইং নিজেই পুরো নির্বাচনপ্রক্রিয়া তত্ত্বাবধান করেছেন। বিতর্কিত এ নির্বাচনে সু চির নেতৃত্বাধীন দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসিসহ (এনএলডি) গুরুত্বপূর্ণ অনেক দল অংশ নেয়নি।
গৃহযুদ্ধের কারণে মিয়ানমারের অনেক প্রশাসনিক অঞ্চলে (টাউনশিপ) ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়নি। বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ভোট না হওয়ায় নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো বলছে, নির্বাচন ‘আবাধ ও সুষ্ঠু’ হয়নি। সামরিক শাসনকে বৈধতা দেওয়ার জন্য এ নির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে রোহিঙ্গাসহ অনেক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ ভোট দিতে পারেনি, তা ছাড়া ভোটের সময়ে বিমান হামলায় অন্তত ১৭০ জন সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ৪০০ জনকে আটক করা হয়েছে।
স্বীকৃতি দেয়নি আসিয়ান
আল–জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসিয়ানের বর্তমান চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে ফিলিপাইন। গতকাল দেশটির পররাষ্ট্রসচিব তেরেসা লাজারো বলেন, ‘মিয়ানমারে তিন ধাপে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে এখনো স্বীকৃতি দেয়নি’ আসিয়ান।
লাজারো জানান, আসিয়ান এখনো মিয়ানামারের নির্বাচনের বিষয়ে নিজেদের চূড়ান্ত সম্মতি বা অবস্থান ঠিক করতে পারেনি। তিন ধাপে ভোট গ্রহণ শেষ হলেও পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া এখনো সম্পূর্ণ হয়নি।
গতকাল ফিলিপাইনের সেবু শহরে চলতি বছর প্রথমবারের মতো আসিয়ানের মন্ত্রিপর্যায়ে বড় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মিয়ানমারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল এবারের বৈঠকের অন্যতম আলোচ্য বিষয়। বৈঠক শেষে লাজারো সংবাদ সম্মেলনে কথা বলার সময় এসব উল্লিখিত মন্তব্য করেন।