পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ গত তিনটি বৈঠকে নীতি সুদের হার বৃদ্ধি করায় ডলার আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েছে মুদ্রাবাজারের ফাটকাবাজেরা। দুর্বল অর্থনীতির খপ্পরে পড়া অন্যান্য প্রধান মুদ্রা বিক্রি করে ডলার কিনতে শুরু করে তারা। এতে ডলার শিগগিরই চাঙা হয়ে ওঠে এবং অন্যদের পেছনে ফেলে এগিয়ে যায়।

এর বিপরীতে জাপানের মুদ্রা কর্তৃপক্ষ এখনো সুদের হার বৃদ্ধি না করার সনাতন পথে এগোচ্ছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের মুদ্রানীতির ফারাক অনেকটাই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইয়েনের মানের পতন ঠেকানোর ক্ষেত্রেও মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপের মতো সনাতন পথে হাঁটছে জাপান।

পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ গত তিনটি বৈঠকে নীতি সুদের হার বৃদ্ধি করায় ডলার আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েছে মুদ্রাবাজারের ফাটকাবাজেরা। দুর্বল অর্থনীতির খপ্পরে পড়া অন্যান্য প্রধান মুদ্রা বিক্রি করে ডলার কিনতে শুরু করে তারা। এতে ডলার শিগগিরই চাঙা হয়ে ওঠে এবং অন্যদের পেছনে ফেলে এগিয়ে যায়।

জাপানের অর্থনীতির অবস্থা ইউরোপের দেশগুলোর মতো শোচনীয় নয়। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, খাদ্যপণ্য ও সারের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়া জাপানকেও বিপাকে ফেলেছে। জাপানে জ্বালানির যে চাহিদা, তার প্রায় সবটুকুই আমদানি করা হয়। সারের জন্যও জাপান আমদানির ওপর নির্ভরশীল। পাশাপাশি দেশটির খাদ্যচাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ আসে বিদেশ থেকে।

ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে দাম বেড়ে যাওয়ায় এসব পণ্য আমদানির জন্য জাপানকে আগের চেয়ে অনেক বেশি মূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে। এতে করে বাণিজ্যিক ভারসাম্য হারাচ্ছে দেশটি। অর্থনীতির সার্বিক এই প্রতিকূল অবস্থা ইয়েনের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। এর বাইরে জাপানের মুদ্রা কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনাও ইয়েনের পতনের জন্য দায়ী বলে উল্লেখ করা হয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যমে।

মাস দেড়েক আগেও বাজারে প্রতি ডলারের বিপরীতে ১১০ ইয়েনের কাছাকাছি পাওয়া যেত। গত শুক্রবার একপর্যায়ে তা বেড়ে প্রায় ১৪৯ ইয়েনে গিয়ে ঠেকে। পরিস্থিতি আরও সংকটের দিকে এগোবে কি না, তা সাপ্তাহিক ছুটির শেষে আগামীকাল সোমবার মুদ্রাবাজার চালু হলে বোঝা যাবে।
ইয়েনের দুর্বল অবস্থায় জাপানে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। জনজীবনে এর ব্যাপক প্রভাব ইতিমধ্যে প্রতিফলিত হতে শুরু করেছে। জাপান সরকারও নতুন এই সমস্যা নিয়ে উদ্বিগ্ন। সমাজের সবচেয়ে দুর্বল অংশকে কীভাবে সহায়তা করা যায়, তা নিয়ে ভাবছেন সরকারের নীতিনির্ধারকেরা। এবারই প্রথম জাপানে অভাবী শিশুর উপস্থিতির কথা শোনা যাচ্ছে। তাদের সাহায্যের জন্য খাদ্য কুপন বিতরণের মতো পদক্ষেপও সরকারের বিবেচনায় আছে।

জাপানের অর্থনীতির আরেক সহায়ক শক্তি হিসেবে দেখা হয় পর্যটন শিল্পকে। করোনাভাইরাস–পরবর্তী সময়ে এই শিল্প আবার দাঁড় করাতে চাইছে জাপান সরকার। তাদের ধারণা, দুর্বল ইয়েনের সুযোগ নিয়ে বিদেশি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটকেরা জাপান ভ্রমণে আগের চেয়ে বেশি আকৃষ্ট হবে এবং তা অর্থনীতিকে কিছুটা হলেও সাহায্য করবে।

করোনা মহামারির আগে ২০১৯ সালে মোট ৩ কোটি ২০ লাখ বিদেশি পর্যটক জাপান ভ্রমণ করেছিলেন। জাপানে তাঁদের মোট খরচের পরিমাণ ছিল প্রায় পাঁচ লাখ কোটি ইয়েন। সেই সময়ের চেয়ে পর্যটকের সংখ্যা এখন দশ ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে।

আগের মতো বিদেশি পর্যটক আকৃষ্ট করার পথে প্রতিবন্ধক হিসেবে দাঁড়িয়েছে চীনের সঙ্গে জাপানের সম্পর্কের বিষয়টি। ২০১৯ সালে জাপান ভ্রমণে আসা বিদেশি পর্যটকের ৩০ শতাংশের বেশি ছিলেন চীনা নাগরিক। জাপানে তাঁরা উদার হাতে খরচ করেছেন। চীনা পর্যটকদের ফিরে আসার প্রবণতা এখনো সেভাবে লক্ষ করা যায়নি।

তাইওয়ান প্রশ্ন নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে চীনের সঙ্গে মতবিরোধ বৃদ্ধি পাওয়া ছাড়াও চীনে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ শিথিল না হওয়া পর্যটনের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে পরিস্থিতি কোন পথে এগিয়ে যাবে, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত পেতে হলে জাপানকে হয়তো আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।