কোবে গরুর মাংসের ক্রোকেট
টুইটার থেকে

রেস্তোরাঁ কিংবা খাবার সরবরাহকারী অ্যাপে পছন্দের কোনো খাবারের ফরমাশ দিয়ে কতক্ষণ অপেক্ষা করতে পারবেন? আধা ঘণ্টা, সর্বোচ্চ এক ঘণ্টার মধ্যে সেটি হাতে না পেলে আপনি অস্থির হয়ে পড়বেন। কিন্তু যদি আপনাকে বলা হয়, এখন একটি খাবার অর্ডার করবেন, সেটি সরবরাহ করা হবে ৩০ বছর পরে, তাহলে নিশ্চয়ই চোখ কপালে উঠবে। এমন অবাক করা কাণ্ড ঘটেছে জাপানে।

জাপানের পশ্চিমাঞ্চলের তাকাসাগো শহরের পুরোনো একটি দোকান ‘আসাহিয়া’। ১৯২৬ সাল থেকে দোকানটি মাংস ও মাংসজাত খাবার বিক্রি করে আসছে। আসাহিয়ার জনপ্রিয় খাবারের তালিকায় শীর্ষে কোবে গরুর মাংসের ক্রোকেট। এটা মূলত সবজির সঙ্গে গরুর মাংসের মিশ্রণে বানানো একটি খাবার।

একসময় আসাহিয়ার সামনে কোবে গরুর মাংসের ক্রোকেট কেনার জন্য লম্বা সারি দেখা যেত। পরে এই খাবার অনলাইনেও জনপ্রিয়তা পায়। তবে চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে খাবারটি সরবরাহ করতে পারেনি আসাহিয়া। বাড়তে থাকে গ্রাহকদের অপেক্ষার পালা। এখন প্রতিষ্ঠানটি বলছে, বিশেষ এই খাবার অর্ডার করার পর গ্রাহকদের তা হাতে পেতে তিন দশক পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। এমনকি দাম বাড়িয়ে বা বিক্রি সাময়িক বন্ধ রেখেও এটির চাহিদা কমানো যায়নি।

চলতি বছরের এপ্রিলে এক নারী হিমায়িত কোবে গরুর মাংসের ক্রোকেট হাতে পেয়ে সেই ছবি টুইটারে পোস্ট করেছেন। ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘২০১৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর খাবারটি অর্ডার করেছিলাম। অবশেষে ৯ বছর পর তা হাতে পেলাম।’ তবে এই নারীর মতো সৌভাগ্য সবার হয় না। চাহিদা অনেক বেশি ও উপকরণের জোগান সীমিত থাকায় কেউ কেউ খাবারটি ৩০ বছর পরে হাতে পাবেন বলে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু কেন এত দীর্ঘ অপেক্ষা? এমন প্রশ্নের জবাবে আসাহিয়ার মালিক সিগেরু নিত্তা জানান, হিমায়িত এই খাবার বানাতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিশেষ জাতের আলু ও তিন বছর বয়সী কোবে গরুর টাটকা মাংস প্রয়োজন।

সংরক্ষণ না করে প্রতিদিন সংগ্রহ করা উপকরণ দিয়ে এটা বানানো হয়। মাঝে দীর্ঘদিন আলুর ফলন ভালো হয়নি। তাই খাবারটি প্রয়োজন অনুযায়ী বানানো যায়নি। আর এতেই গ্রাহকদের অপেক্ষার প্রহর দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়।