খেলনা ওরাংওটাংকে আঁকড়ে থাকা সেই পাঞ্চ এখন কেমন আছে

ছোট্ট পাঞ্চ ও তার পুতুল ওরাংওটাং। পাঞ্চ এখন আর ছোট্টটি নেই, দিনভর অন্যান্য বানরের সঙ্গে হুল্লোড় করে দিন কাটে তার। ছবিটি ১৯ ফেব্রুয়ারি তোলাছবি: রয়টার্স

কমলা রঙের একটি পুতুল ওরাংওটাংকে আঁকড়ে ধরে সেটির ভেতর নিজের মাকে খুঁজে ফেরা ছোট্ট বানর ছানা ‘পাঞ্চ’কে মনে আছে? ইন্টারনেট দুনিয়া মাতিয়ে রাখা সেই বানর নিজের জীবনের এক বছর পূর্ণ করেছে।

জন্মদিনের সেই আনন্দঘন মুহূর্তে দেশ-বিদেশের কয়েক হাজার মানুষ শুভেচ্ছা কার্ড পাঠিয়ে পাঞ্চকে ভালোবাসায় ভাসিয়েছেন।

জাপানের চিবা অঞ্চলের ইচিকাওয়া সিটি জু অ্যান্ড বোটানিক্যাল গার্ডেনে থাকে পাঞ্চ। মা পরিত্যক্ত এই ম্যাকাক প্রজাতির বানরটি গত বছর জন্ম নেওয়ার পরই আলোচনায় আসে।

আরও পড়ুন

জন্মের পর মা বানরটি অসুস্থ বাচ্চাটিকে ছেড়ে যায়। প্রথম দিকে চিড়িয়াখানার কর্মীরাই বানরছানাটির দেখভাল করতেন। বানরছানাদের আঁকড়ে ধরার প্রবণতা স্বাভাবিক রাখতে পাঞ্চের হাতে দেওয়া হয়েছিল একটি পুতুল ওরাংওটাং। পুতুলটি আঁকড়ে ধরে পাঞ্চের বেঁচে থাকার লড়াই ইন্টারনেটে কোটি মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছিল।

আজ পাঞ্চ আর সেই পুতুলপ্রেমী ছোট্ট ছানাটি নেই। চিড়িয়াখানায় আরও প্রায় অর্ধশত বানরের দলের সঙ্গে বেশ আনন্দে দিন কাটাচ্ছে সে। দলের অন্য বানরদের থেকে তাকে আলাদা করাই কঠিন। তবে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে পুতুলটির মায়া কাটিয়ে উঠলেও ভক্তদের মনে তার জায়গা এতটুকুও কমেনি।

আরও পড়ুন

তাই তো প্রথম জন্মদিনে এই বানরছানার নামে জাপান ও জাপানের বাইরে থেকে প্রায় আড়াই হাজার শুভেচ্ছা কার্ড চিড়িয়াখানায় এসেছে। জন্মদিনের বিশেষ প্রদর্শনীতে এই কার্ডগুলো দিয়ে দেয়াল সাজানো হয়েছে।

চিড়িয়াখানার প্রধান তাকাশি ইয়াসুনাগা বলেন, ‘পাঞ্চ যখন বেঁচে থাকার সংগ্রাম করছিল, তখন আমাদের দুই কর্মী তাকে বাঁচিয়ে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। সেই কঠিন দিনগুলো পেরিয়ে আজ পাঞ্চের এত ভালোবাসা পাওয়া সত্যিই দারুণ আনন্দের।’