ভিডিওতে নেপালে বন্যার বিভীষিকা: কয়েক সেকেন্ডে ভেসে যায় নদীতীরের গ্রাম

নদী–তীরবর্তী পুরো জনপদ কাদামাটিতে ঢেকে গেছেছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

হিমবাহধসে সৃষ্ট ভয়াবহ ঢল নেপালের ভোটেকোশি ও ত্রিশূলী নদী–তীরবর্তী বসতিগুলোতে যে তাণ্ডব চালিয়েছে, তা ধরা পড়েছে ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিওতে। এতে দেখা যাচ্ছে, পানি ও কাদামাটির ঢল নদী–তীরবর্তী জায়গায় উঠে ভবনের ওপর দিয়ে বয়ে চলেছে, সেতু, সড়ক ও গাড়ি ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নদী–তীরবর্তী পুরো এলাকা গাঢ় কাদা ও ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়েছে।

গত বুধবার নেপালের তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যা আঘাত হানার পর এমন দৃশ্য দেখা যায়। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ঢলের সঙ্গে আসা বিপুলসংখ্যক ধ্বংসাবশেষের স্রোতে নদীতীরের পুরো এলাকা ধ্বংস্তূপে পরিণত হয়েছে, তবে এখানেই শেষ হয়নি। তীব্র গতির ওই স্রোত নদী ধরে সামনের দিকে এগিয়ে গেছে আর ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে গেছে তীরবর্তী জনপদ।

আরও পড়ুন

নেপালে এই দুর্যোগে সাড়ে পাঁচ শর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এখনো নিখোঁজ রয়েছে হাজারের বেশি মানুষ।

হিমালয় পর্বতমালার নিচের খাড়া ঢাল ও সবুজে ঘেরা উপত্যকাগুলো বিশেষভাবে বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকিতে থাকে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হিমবাহ গলে যাওয়ার ঘটনাও আরও নিয়মিত হয়ে উঠেছে।

নেপালের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় কয়েক ডজন সেতু ধ্বংস হয়ে গেছে এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কাঠমান্ডুভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, হিমবাহ থেকে সৃষ্ট একটি তুষারধস থেকেই বুধবারের আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। এক বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, ত্রিশূলী নদীর একটি অংশে মাত্র আধা ঘণ্টায় পানির উচ্চতা সর্বোচ্চ ৯ মিটার পর্যন্ত বেড়ে যায়।

পৃথিবীর ‘তৃতীয় মেরু’ হিসেবে পরিচিত হিমালয়ের বরফ ব্যবস্থার অস্থিতিশীলতা ভাটির দিকে বসবাসকারী প্রায় ২০০ কোটি মানুষের জন্য ভয়াবহ ও একের পর এক সংকটের ঝুঁকি তৈরি করছে।

২০২৫ সালের আগস্টেও ওই অঞ্চলে একই ধরনের আকস্মিক বন্যা হয়েছিল। সে সময় অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে তিব্বতের একটি হিমবাহ-হ্রদ উপচে পড়েছিল। এতে ৯ জন নিহত হন এবং নেপাল ও চীনের মধ্যে যোগাযোগকারী একটি সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

আরও পড়ুন