নেপালের পার্লামেন্ট নির্বাচনে বড় ব্যবধানে এগিয়ে অভ্যুত্থানকারীদের দল

র‍্যাপার থেকে রাজনৈতিক নেতা বনে যাওয়া বালেন্দ্র শাহর দল এগিয়েছবি: রয়টার্স

নেপালের পার্লামেন্ট নির্বাচনে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে দেশটিতে সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)। আজ শুক্রবার প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, আরএসপি ১০৫টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। ইতিমধ্যে একটি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে দলটি।

নেপালি কংগ্রেস (এনসি) এখন পর্যন্ত একটি আসনে জয় পেয়েছে এবং ১০টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। এ ছাড়া সিপিএন-ইউএমএল ১২টি আসনে এবং নেপালি কমিউনিস্ট পার্টি ১০টি আসনে এগিয়ে আছে।

অন্য দলগুলোর মধ্যে শ্রম সংস্কৃতি পার্টি চারটি আসনে এবং রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টি ও জনতা সমাজবাদী পার্টি-নেপাল একটি করে আসনে এগিয়ে রয়েছে। পাশাপাশি দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থী নিজ নিজ আসনে এগিয়ে আছেন।

বেশ কিছু আসনে এখনো ভোট গণনা চলছে। গণনা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফলাফলে পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।

নেপালের পার্লামেন্টের দুই কক্ষের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভস নির্বাচনে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোট গ্রহণ হয়। ২৭৫ সদস্যের আইনসভার ১৬৫ জন সরাসরি এবং ১১০ জন সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের (পিআর) মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্নীতি থেকে মুক্তি, কর্মসংস্থান ও স্বচ্ছ রাজনীতির দাবিতে গত সেপ্টেম্বরে তরুণ প্রজন্মের বিক্ষোভে ও সরকারের পতনের পর নেপালে প্রথমবারের মতো সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নেপাল কয়েক দশক ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ১৯৯০ সাল থেকে দেশটিতে ৩২ বার সরকার পরিবর্তন হয়েছে।

নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছে কয়েক দশক ধরে রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করা নেপালি কংগ্রেস এবং সিপিএন-ইউএমএলের মতো পুরোনো দলগুলো। তিন বছর আগে গঠিত আরএসপিতে র‍্যাপ গায়ক হিসেবে জনপ্রিয় মুখ ৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহ গত জানুয়ারিতে যোগ দেন। তিনি দলটির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী।

কাঠমান্ডুর সাবেক এই মেয়র গত সেপ্টেম্বরের বিক্ষোভের প্রধান মুখ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। শাহর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়ছেন ইউএমএলের ৭৪ বছর বয়সী কে পি শর্মা ওলি, যিনি বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনার পর পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।

নেপালের ৩ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ মানুষ এই নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য। গত বছরের বিক্ষোভের পর ভোটার তালিকায় প্রায় ১০ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে, যাঁদের অধিকাংশই তরুণ। এই নতুন ভোটাররা নেপালের রাজনৈতিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আনতে যাচ্ছেন।