ভূমিকম্পে সিয়ানজুর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিয়ানজুর প্রশাসনের প্রধান হেরমান সুহেরমান স্থানীয় কমপাস টিভিকে বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে হতাহত ব্যক্তিদের নিয়ে আসা হচ্ছে। আহত ব্যক্তিদের অধিকাংশই ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়ে আঘাত পেয়েছেন।

ভূমিকম্পে সিয়ানজুর বেশির ভাগ এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। যোগাযোগব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। হেরমান সুহেরমান বলেন, ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্ট ভূমিধসে কুজেনাং এলাকার লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।

সিয়ানজুর শহরের স্থানীয় প্রশাসনের মুখপাত্র আদম এএফপিকে বলেন, ভূমিকম্পে কয়েক হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে। টেলিভিশনগুলোর খবরে দেখা যায়, সিয়ানজুরে কয়েকটি ভবন একেবারে ধসে পড়েছে এবং সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ সড়কে পড়ে আছে। সুহেরমান বলেন, হতাহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা শহরের সায়াং হাসপাতালে ভিড় করছেন। নিহত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন তাঁরা। কারণ, শহরের বাইরে বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দাদের অনেকেই এখনো ধসে পড়া বাড়িঘরে আটকে থাকতে পারেন।

সুহেরমান আরও বলেন, ‘এই হাসপাতালে আমরা এখন গুরুতর আহত লোকজনকে চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করছি। গ্রামগুলো থেকে একের পর এক অ্যাম্বুলেন্স আসছে। গ্রামগুলোতে এখনো বহু পরিবার রয়ে গেছে, যাঁদের উদ্ধার করা যায়নি।’

ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা (বিএনপিবি) বলেছে, ভূমিকম্পে ২ হাজার ২০০টির বেশি বাড়ি ধসে পড়ায় ৫ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। তবে ভূমিকম্পের কারণে ১৩ হাজার মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন জানিয়ে গভর্নর রিদওয়ান বলেছেন, এসব মানুষকে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে।    

ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পের ঝুঁকি অন্য দেশের চেয়ে অনেক বেশি। দেশটির অবস্থান প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’ জোনে হওয়ায় সেখানে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির সক্রিয়তা দেখা যায়। এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেশটিতে বড় ধরনের প্রাণহানিও ঘটে থাকে।

২০০৪ সালে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে ৯ দশমিক ১ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প ও পরে সুনামি আঘাত হানে। এতে ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।