ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘যে কারণে এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে আমি জানি, সেটা আমি জনগণকে বলতে পছন্দ করি। আমরা পেছনে পড়ে গেছি। যে সম্পদ আছে, তা কাজে লাগিয়ে নিজেদের টেনে তুলতে হবে।’

বিক্রমাসিংহে বলেন, ‘আমাদের ৫-১০ বছরের প্রয়োজন নেই। আগামী বছরের শেষ নাগাদ পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে শুরু করবে। ২০২৪ সাল নাগাদ আমরা একটি কার্যকর অর্থনীতি পাব, যার প্রবৃদ্ধি শুরু হবে।’

গোতাবায়ার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে বলেও জানান ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট। গোতাবায়া প্রথমে মালদ্বীপ, পরে সেখান থেকে সিঙ্গাপুরে পালিয়ে যান। তবে বিক্রমাসিংহে বলেছেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট সিঙ্গাপুর নাকি অন্য কোথাও অবস্থান করছেন, সেটা তিনি জানেন না।

বিক্রমাসিংহে এখন পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য লড়ছেন। আগামীকাল বুধবার নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পার্লামেন্টে ভোটাভুটি হবে। ক্ষমতাসীন পোদুজানা পেরামুনা দলের প্রার্থী ছয়বারের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তাঁকে লড়তে হবে আরও দুই প্রার্থীর বিরুদ্ধে।

অবশ্য প্রেসিডেন্ট পদে বিক্রমাসিংহের মনোনয়ন ইতিমধ্যে টালমাটাল ২ কোটি ২০ লাখ মানুষের দেশটিকে নতুন করে বিক্ষোভের ঝুঁকিতে ফেলেছে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁকে মেনে না নেওয়া ঘোষণা দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁর ব্যক্তিগত বাসভবনেও ইতিমধ্যে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

এরপরও প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার প্রত্যাশা পুনর্ব্যক্ত করে বিক্রমাসিংহে বলেন, তিনি আগের সরকারের কেউ নন। ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি তাঁদের কেউ নই, জনগণ বিষয়টি জানে। অর্থনীতি সামাল দিতে আমি দায়িত্ব নিয়েছি।’

প্রেসিডেন্ট হয়ে কেন নিজেকে বিক্ষোভকারীদের পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু করতে চান—এমন প্রশ্নে বিক্রমাসিংহে বলেন, ‘আমি চাই না দেশে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হোক, যা আমার প্রতি হয়েছে, অন্যরাও সে ধরনের ভোগান্তিতে পড়ুক, তা আমি চাই না।...নিশ্চিতভাবে আমি চাই না সেটা অন্য কারও ক্ষেত্রে ঘটুক।’

দেশটিতে বিক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। জনগণকে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ পালনের আহ্বান জানিয়ে বিক্রমাসিংহে বলেন, পার্লামেন্ট সদস্য এবং পার্লামেন্টকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেবেন না।

এদিকে, কাল বুধবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য গণ-অসন্তোষ ঠেকাতে গতকাল সোমবার থেকে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট বিক্রমাসিংহে।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন