গত ১৬ সেপ্টেম্বর পুলিশের হেফাজতে মাসা আমিনির মৃত্যু হয়। ‘অনুপযুক্ত পোশাক’ পরার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল নীতি পুলিশ। এর পর থেকে দেশটিতে ব্যাপক বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ইরানের পক্ষ থেকে দেশটিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য বিদেশি শত্রু ও তাদের প্রতিনিধিদের দায়ী করা হয়। ইরানের বিশ্বকাপ দল গত সোমবার তাদের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে প্রতিবাদের সমর্থন জানিয়ে জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি জানায়।

এ সপ্তাহের শেষে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল জেনেভায় ইরানের বিক্ষোভ নিয়ে আলোচনা করবে। এতে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শী ও নিপীড়নের শিকার লোকজন অংশ নেবেন। এ বৈঠকে ইরানের বিক্ষোভকারীদের ওপর নিপীড়নের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করার একটি মিশন গঠনের বিষয়ে আলোচনা হবে। জাতিসংঘের নথিপত্র অনুযায়ী, এ মিশনে প্রাপ্ত তথ্য ইরানের আদালত ও আন্তর্জাতিক আদালতে তুলে ধরা হবে।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর) বলেছে, ইরানের বিক্ষোভে ৩০০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে অন্তত ৪০টি শিশু রয়েছে। ওএইচসিএইচআরের মুখপাত্র জেরেমি লরেন্স ইরানের কুর্দি এলাকার শহরগুলোর পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানান। গত সপ্তাহে সেখানে ৪০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলোতে বলা হচ্ছে, গত মাসে ইরানে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, পুলিশসহ ৪৬ জন বিক্ষোভে নিহত হয়েছেন। দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা মৃত্যুসংখ্যা এর চেয়ে বেশি হওয়ার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

এদিকে বিক্ষোভ ঘিরে দেশটিতে ধরপাকড় চলছে। দেশটির বিচার বিভাগের একজন মুখপাত্র গতকাল বলেন, সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় এ পর্যন্ত ৪০ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।